রাষ্ট্রায়ত্ত তেল বিপণন সংস্থাগুলি (OMCs) মঙ্গলবার সকালে খুচরো পেট্রোল ও ডিজেলের দাম লিটার প্রতি প্রায় ৯০ পয়সা বাড়িয়েছে। গত শুক্রবার একধাক্কায় লিটার প্রতি ৩ টাকা দাম বৃদ্ধির পর, এক সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে এটি দ্বিতীয়বার মূল্য সংশোধন।
পরপর এই দুই দফায় দাম বাড়ার ফলে ঘরোয়া বাজারে জ্বালানির মূল্যে দীর্ঘ চার বছরের ঐতিহাসিক স্থিতাবস্থার অবসান ঘটল।
কেন হঠাৎ এই দাম বৃদ্ধি?
এই আকস্মিক মূল্য সংশোধনের মূল কারণ হলো পশ্চিম এশিয়ার ক্রমবর্ধমান সংঘাত এবং এর ফলে বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক জ্বালানি পথ হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) আংশিকভাবে অবরুদ্ধ হওয়া।
আমদানির চাপ: ভারত তার মোট অপরিশোধিত তেলের চাহিদার ৮০%-এরও বেশি বিদেশ থেকে আমদানি করে। আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেল প্রতি ১২০ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ার পর বর্তমানে তা ১০০ থেকে ১১০ ডলারের মধ্যে ঘোরাফেরা করছে, যার ফলে কাঁচা তেল আমদানির খরচ আকাশছোঁয়া হয়ে গেছে।

গ্রাহকদের স্বস্তি দিতে ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশন (IOCL), ভারত পেট্রোলিয়াম (BPCL) এবং হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়াম (HPCL)-এর মতো রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলি প্রায় ১১ সপ্তাহ ঘরোয়া বাজারে জ্বালানির দাম বাড়তে দেয়নি। তবে সূত্র মারফত জানা গেছে, প্রতিদিনের ক্রমবর্ধমান আর্থিক ক্ষতি আর সামাল দেওয়া সম্ভব হচ্ছিল না বলেই শেষ পর্যন্ত কোম্পানিগুলি এই Boঝা আংশিকভাবে সাধারণ মানুষের ওপর চাপাতে বাধ্য হয়েছে।
উচ্চপদস্থ জ্বালানি আধিকারিকরা জানিয়েছেন যে, গত এক সপ্তাহে মোট প্রায় ৪ টাকা দাম বাড়লেও, আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের মূল্যবৃদ্ধির ঘাটতি পুরোপুরি মেটাতে এই বৃদ্ধি প্রয়োজনের তুলনায় খুবই সামান্য।
অর্থনীতিবিদদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির এই চাপ যদি বজায় থাকে, তবে আগামী কয়েক মাসের মধ্যে পরিবহন খরচের এই বৃদ্ধি স্বাভাবিকভাবেই নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের ওপর প্রভাব ফেলবে। ফলে মুদিখানার জিনিসপত্র, দৈনন্দিন পণ্য এবং যাতায়াতের খরচ বেড়ে যাওয়ার কারণে বাজারে মূল্যস্ফীতি (Inflation) দেখা দিতে পারে।
প্রধান মেট্রো শহরগুলিতে নতুন হার
বিভিন্ন রাজ্যে স্থানীয় মূল্য সংযোজিত কর (VAT) এবং পরিবহন খরচের পার্থক্যের কারণে, পাম্পগুলিতে জ্বালানির বর্তমান দাম নিচে দেওয়া হলো: