কেন্দ্রীয় সরকার পেট্রোল ও ডিজেল বিক্রির নিয়মে একটি বড় এবং গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনেছে। পেট্রোলিয়াম মন্ত্রক থেকে ‘মোটর স্পিরিট অ্যান্ড হাই স্পিড ডিজেল (টেম্পোরারি রেগুলেশন অফ সাপ্লাই থ্রু রিটেল আউটলেটস) অর্ডার, ২০২৬’ জারি করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক বাজারে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং জ্বালানি তেলের সাপ্লাই চেইনে সমস্যার কারণে দেশের বাজারে যাতে তেলের ঘাটতি বা কালোবাজারি না হয়, তার জন্যই এই পদক্ষেপ।
নতুন নিয়মে ক্রয়ের সীমা (Purchase Limit)
সাধারণ পেট্রোল পাম্প (Retail Outlets) থেকে একজন গ্রাহক বা একটি গাড়ির জন্য একদিনে সর্বোচ্চ ২০০ লিটার ডিজেল কেনা যাবে।
এই ডিজেল সরাসরি গাড়ির ফুয়েল ট্যাংকে অথবা PESO (Petroleum and Explosives Safety Organisation) দ্বারা অনুমোদিত কন্টেইনার বা পাত্রেই কেবল নেওয়া যাবে। জেরি ক্যান বা সাধারণ ড্রামে করে বেশি পরিমাণে তেল নেওয়া নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
সাধারণ পাম্প থেকে কেনা এই ডিজেল কোনোভাবেই খোলা বাজারে চড়া দামে পুনর্বিক্রয় (Resell) করা যাবে না।
বড় বড় কলকারখানা, ইন্ডাস্ট্রি, মেইল বা কমার্শিয়াল ব্যবহারকারীরা (যারা একসাথে প্রচুর তেল কেনেন) এখন থেকে আর সাধারণ খুচরো পেট্রোল পাম্প থেকে পেট্রোল বা ডিজেল কিনতে পারবেন না। তাদের নিজস্ব ডেডিকেটেড ‘বাল্ক সাপ্লাই চ্যানেল’ বা কন্টেইনার পাম্প থেকেই তেল সংগ্রহ করতে হবে।
সাধারণ বাইক, গাড়ি বা ছোট যানবাহনের চালক এবং গৃহস্থালি ও কৃষিকাজের জন্য যারা অল্প তেল কেনেন, তাদের চিন্তার কোনো কারণ নেই। এই নিয়ম মূলত কালোবাজারি রুখতে এবং বড় বাণিজ্যিক গ্রাহকদের জন্য আনা হয়েছে। আপাতত এই নিয়ম ৯০ দিনের জন্য লাগু করা হয়েছে।
নিয়ম ভাঙলে কী শাস্তি বা আইনি ব্যবস্থা হবে?
যদি কোনো গ্রাহক, ডিলার বা পেট্রোল পাম্পের অপারেটর এই নিয়ম লঙ্ঘন করেন, তবে সরকার অত্যন্ত কঠোর পদক্ষেপের নির্দেশ দিয়েছে:
অপরিহার্য পণ্য আইন (Essential Commodities Act) অনুযায়ী শাস্তি: এই নির্দেশিকাটি ‘অপরিহার্য পণ্য আইন’-এর অধীনে জারি করা হয়েছে। ফলে নিয়ম ভাঙলে এই আইনের আওতাতেই কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে।
লাইসেন্স বাতিল ও পাম্প সিল: কোনো পেট্রোল পাম্প যদি দৈনিক ২০০ লিটারের বেশি ডিজেল কোনো সাধারণ গ্রাহককে দেয় কিংবা লুকিয়ে বাণিজ্যিক সংস্থাকে বিক্রি করে, তবে সেই পাম্পের লাইসেন্স বাতিল এবং পাম্পটি সিল করে দেওয়া হতে পারে।
কালোবাজারি ও মজুতদারির মামলা: তেল কিনে বাইরে চড়া দামে পুনর্বিক্রয় করলে বা অবৈধভাবে ড্রাম বোঝাই করে তেল মজুত (Hoarding) করলে রাজ্য সরকার এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলোর প্রশাসনকে সরাসরি আইনি ব্যবস্থা ও প্রয়োজনে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জরিমানা ও কারাদণ্ড: অপরাধের গুরুত্ব অনুযায়ী মোটা অঙ্কের আর্থিক জরিমানা এবং অপরিহার্য পণ্য আইনের ধারা মোতাবেক জেল বা কারাদণ্ডও হতে পারে।
কেন এই হঠাৎ সিদ্ধান্ত?
বর্তমানে কমার্শিয়াল বা বাল্ক রেটের তুলনায় খুচরো পেট্রোল পাম্পে ডিজেলের দাম লিটার প্রতি প্রায় ৪০ টাকা কম। এই বিশাল ফারাকের কারণে অনেক বড় বড় কলকারখানা বা ট্রান্সপোর্ট কোম্পানি নিজস্ব ডিপো থেকে তেল না কিনে সাধারণ পেট্রোল পাম্প থেকে সস্তায় হাজার হাজার লিটার তেল তুলে নিচ্ছিল। এর ফলে সাধারণ মানুষের জন্য রাখা তেলের ঘাটতি দেখা দিচ্ছিল এবং কিছু জায়গায় তেল মজুত করে কালোবাজারি শুরু হয়েছিল। সাধারণ মানুষের পকেটে যাতে টান না পড়ে এবং বাজারে তেলের জোগান স্বাভাবিক থাকে, তার জন্যই সরকার এই ২০০ লিটারের সিলিং বা সীমা বেঁধে দিয়েছে।