গত ৫ই জুন কলকাতার জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়ি রথীন্দ্র মঞ্চে সর্বভারতীয় সঙ্গীত ও সংস্কৃতি পরিষদ কর্তৃক আয়োজিত ‘সর্বভারতীয় পরবণী রবীন্দ্র-নজরুল সন্ধ্যা’ সাংস্কৃতিক জগতে এক বিশেষ বাতাবরণ তৈরি করেছে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং কাজী নজরুল ইসলামের রচনাগুলির উপর ভিত্তি করে অনুষ্ঠিত এই চিত্তাকর্ষক অনুষ্ঠানে সঙ্গীত, আবৃত্তি ও নৃত্যের সংমিশ্রণে এক হৃদয়গ্রাহী পরিবেশ সৃষ্টি হয়।
অনুষ্ঠানের বিভিন্ন পর্বে উজ্জ্বল ও প্রতিভাবান শিল্পীদের উপস্থিতি দর্শকদের অভিভূত করে। তবে সন্ধ্যার চূড়ান্ত পর্বে ‘সুরলহরী নৃত্যায়ন’-এর প্রতিষ্ঠাতা রত্নমানি ঝুমুর ঘোষ এবং তাঁর দক্ষ কুশীলবদের পরিবেশনা বিশেষভাবে উপস্থিত সকলের হৃদয় জয় করে নিয়েছে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুল ইসলামের সৃষ্টির ভাবনা নৃত্যের মাধ্যমে তুলে ধরার ক্ষেত্রে তাঁদের অভিনব চিন্তা, শিল্পসম্মত উপস্থাপনা, সুশ্রী সাজপোশাক এবং অনায়াস নৃত্যভঙ্গিমা ছিল অত্যন্ত দর্শনীয়।

প্রতিটি পরিবেশনায় শিল্পীদের আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার প্রতিফলন স্পষ্ট। রবীন্দ্রসঙ্গীত ও নজরুলগীতির আবেগময় সুরের সাথে নৃত্যের সার্থক সমন্বয় দর্শকদের এক বিশেষ সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতায় নিমজ্জিত করে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথি ও সংস্কৃতিপ্রেমী দর্শকরা শিল্পীদের পরিবেশনায় বারবার করতালির মাধ্যমে তাঁদের উৎসাহ প্রদর্শন করছেন।
অনুষ্ঠানের সমাপনী পর্বে সর্বভারতীয় সঙ্গীত ও সংস্কৃতি পরিষদের পক্ষ থেকে ড. শান্তনু সেনগুপ্ত মহাশয় শ্রদ্ধেয় শিল্পী রত্নমানি ঝুমুর ঘোষকে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মারকচিহ্ন অর্পণ করেন। এই সম্মাননার মাধ্যমে শিল্পীর দীর্ঘকালীন সাংস্কৃতিক প্রচেষ্টা ও নৃত্যকলার প্রতি তাঁর নিবেদনকে সম্মানিত করা হয়, যা এর বিশেষ গুরুত্ব নির্দেশ করে।
মোটের উপর, ‘সর্বভারতীয় পার্বনী রবীন্দ্র-নজরুল সন্ধ্যা’ শুধুমাত্র একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হিসেবেই সীমাবদ্ধ থাকে না, বরং এটি রবীন্দ্র-নজরুল ভাবনার একটি সার্থক উদযাপনে পরিণত হয়, যা উপস্থিত সকলের হৃদয়ে একটি দীর্ঘকালীন স্মৃতি হিসেবে স্থান করে নেবে।