আধুনিক ফুটবলে প্রযুক্তির ব্যবহার নতুন কিছু নয়। তবে সাম্প্রতিক বিশ্বকাপগুলোতে ফুটবলপ্রেমীদের নজর কেড়েছে একটি বিশেষ প্রযুক্তি— তা হলো ফুটবলের ভেতরে থাকা বিশেষ সেন্সর বা মাইক্রোচিপ। বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ামক সংস্থা ফিফা (FIFA) এবং ক্রীড়া সামগ্রী প্রস্তুতকারী সংস্থা অ্যাডিডাস (Adidas) যৌথভাবে এই ‘কানেক্টেড বল টেকনোলজি’ (Connected Ball Technology) তৈরি করেছে। কিন্তু কেন ব্যবহার করা হচ্ছে এই হাই-টেক বল?
মূলত মাঠের সিদ্ধান্তগুলোকে শতভাগ নির্ভুল করতে এবং রেফারিদের সাহায্য করতেই এই আয়োজন। বলের ঠিক কেন্দ্রে বসানো থাকে একটি আল্ট্রা-ওয়াইডব্যান্ড (UWB) সেন্সর এবং ইনার্শিয়াল মেজারমেন্ট ইউনিট (IMU) চিপ।
এই চিপটির প্রধান কাজগুলো নিচে দেওয়া হলো:
বলের ভেতরের এই সেন্সরটি প্রতি সেকেন্ডে ৫০০ বার করে ডেটা পাঠায় ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (VAR) রুমে। এর ফলে কোনো খেলোয়াড় ঠিক কোন মিলি-সেকেন্ডে বলে লাথি মেরেছেন, তা নিখুঁতভাবে ধরা পড়ে।
স্টেডিয়ামের ছাদের চারপাশে থাকা স্পেশাল ট্র্যাকিং ক্যামেরার সঙ্গে সমন্বয় করে এই চিপটি সেমি-অটোমেটেড অফসাইড প্রযুক্তির কাজ সহজ করে দেয়। খালি চোখে যা ধরা অসম্ভব, তা এই বল নিমেষেই জানিয়ে দেয়।
জটলার মধ্যে বল কারও হাতে লেগেছে কি না (হ্যান্ডবল) কিংবা গোললাইন বা সাইডলাইন পুরোপুরি পার হয়েছে কি না, বলের গায়ে লাগা সামান্যতম কম্পন বিশ্লেষণ করে রেফারিরা তা মুহূর্তে নিশ্চিত করতে পারেন।
মাত্র ১৪ গ্রাম ওজনের এই সেন্সরটি বলের ভেতরে এমনভাবে সাসপেন্ডেড বা ঝুলন্ত অবস্থায় থাকে, যাতে খেলোয়াড়দের শট মারতে কোনো অসুবিধা না হয় এবং বলের গতি স্বাভাবিক থাকে। তবে প্রযুক্তির এই অগ্রগতির একটি মজার দিকও রয়েছে— এই ফুটবলগুলোকে ম্যাচের আগে মোবাইল ফোনের মতোই ওয়্যারলেস চার্জারে চার্জ দিতে হয়! নিখুঁত ও বিতর্কহীন ফুটবল উপহার দিতে এই চিপ এখন আধুনিক বিশ্বকাপের অন্যতম ভরসা।