বিশ্ব সঙ্গীত দিবসের (World Music Day) ৪৪তম বার্ষিকী উদ্যাপন উপলক্ষে গত ২৯শে জুন ২০২৬ কলকাতার ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিকভাবে সমৃদ্ধ জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়ির রথীন্দ্র মঞ্চে অনুষ্ঠিত হলো এক অসাধারণ, প্রাণবন্ত এবং ভাবগম্ভীর সাংস্কৃতিক সমাবেশ। এই মহৎ অনুষ্ঠানে সঙ্গীত, নৃত্য এবং ঐতিহ্যের সুন্দর সমন্বয়ে তৈরি হওয়া এক মনোরম পরিবেশ শিল্পপ্রেমী দর্শকদের হৃদয়ে গভীর প্রভাব ফেলে।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই সমবেত সঙ্গীতের মাধ্যমে একটি অসাধারণ সুরমূর্ছনা সৃষ্টি হয়। বিভিন্ন সাংস্কৃতিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, যেগুলি পরিষদের দ্বারা অনুমোদিত, নিজেদের বৈশিষ্ট্য এবং ঐতিহ্যকে ধারণ করে সমবেত পরিবেশনায় অংশগ্রহণ করে। অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ছিল তারকেশ্বরের ‘সুর মঞ্জুরী’, হাওড়ার ‘লহরী সঙ্গীতালয়’ ও ‘মাকড়দহ গীতিমাল্য’, বারুইপুরের ‘মুর্ছনা কলা কেন্দ্র’, বসিরহাটের ‘গানবাণী’, কলকাতার ‘মল্লার শিল্পীগোষ্ঠী’ ও ‘সাধনা’ এবং জ্যাংড়ার ‘সুরশ্রী’। প্রতিটি দল তাদের সূক্ষ্ম সুরবোধ, তালজ্ঞান এবং শৈল্পিক শৃঙ্খলার মাধ্যমে দর্শক ও শ্রোতাদের মুগ্ধ করতে সক্ষম হয়।

অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে সমবেত নৃত্য পরিবেশনা এক নতুনমাত্রা এনে দেয়। এই পর্বে অংশগ্রহণ করে সর্বভারতীয় কলেজ অফ মিউজিক অ্যান্ড ফাইন আর্টসের নৃত্য বিভাগ, বীণাপুরে অবস্থিত ‘পুস্পপুট’, কাশীনগরের ‘নৃত্যাঙ্গন’ এবং বারাসাতের ‘মিথিলা ডান্স অ্যাকাডেমি’। প্রতিটি নৃত্য পরিবেশনা ছিল ছন্দ, অভিব্যক্তি ও সৌন্দর্যের এক অপূর্ব সম্মিলন, যা দর্শকদের মধ্যে গভীর প্রশংসা এবং স্বীকৃতি অর্জন করে। অনুষ্ঠানের শেষেরভাগে উপস্থিত থাকা প্রত্যেক সাংস্কৃতিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গুরুদের সম্মানিত করা হয় উত্তরীয় ও স্মারকের দ্বারা।
সর্বভারতীয় সঙ্গীত ও সংস্কৃতি পরিষদের এই উদ্যোগ শুধুমাত্র একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না; এটি বাংলার সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের একটি জীবন্ত উদাহরণে পরিণত হয়েছিল। শিল্পীদের কঠোর পরিশ্রম, আয়োজকদের দৃষ্টিশক্তি এবং দর্শকদের আন্তরিক অংশগ্রহণ একত্রিত হয়ে পুরো অনুষ্ঠানটিকে একটি উচ্চমানের সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতায় রূপান্তরিত করেছে।
এই সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, আগামী ৩রা জুলাই, ২০২৬ তারিখে কলকাতার রামমোহন লাইব্রেরিতে আবৃত্তি শিল্পের প্রতি নিবেদিত একটি বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এছাড়াও, ৮ই জুলাই, ২০২৬ তারিখে আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উপলক্ষে একই স্থানে একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানও পালিত হবে। এই ধারাবাহিক সাংস্কৃতিক উদ্যোগের মাধ্যমে সর্বভারতীয় সঙ্গীত ও সংস্কৃতি পরিষদ বাংলার শিল্প ও সংস্কৃতির পরিধিকে আরো সমৃদ্ধ ও সম্প্রসারণের পথে এগিয়ে যাচ্ছে।