চন্দননগরের ঐতিহ্যবাহী জলভরা সন্দেশ এবার ভৌগোলিক নির্দেশক (GI) স্বীকৃতি লাভ করল। ২০২৬ সালে পশ্চিমবঙ্গের ২১টি পণ্যের সাথে এই জনপ্রিয় মিষ্টিটি জিআই ট্যাগ অর্জন করেছে। এর ফলে সরকারিভাবে স্বীকৃত হল যে জলভরা সন্দেশের উৎপত্তিস্থল চন্দননগর, যা এই ঐতিহ্যবাহী মিষ্টির পরিচিতিকে আরো দৃঢ় করবে।
প্রায় ২০০ বছর আগে চন্দননগরের সূর্যকুমার মোদকের মিষ্টান্ন ভাণ্ডারে এই সন্দেশের আবির্ভাব ঘটে। এটি শোনা যায় যে, এক জমিদার পরিবারের নতুন জামাইকে চমকে দিতে ছানার আবরণের ভেতরে নলেন গুড়ের রস ভর্তি করে এই বিশেষ সন্দেশটি তৈরি করা হয়েছিল। শুরু থেকেই এর ব্যতিক্রমী স্বাদ এবং আকর্ষণীয় উপস্থাপনার জন্য জলভরা সন্দেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে।

সূর্যকুমার মোদকের বর্তমান কর্ণধার শৈবাল কুমার মোদক বলেছেন, জিআই ট্যাগ শুধুমাত্র ঐতিহ্যের একটি স্বীকৃতি নয়, বরং এটি সরকারি উদ্যোগের মাধ্যমে ভবিষ্যতে বিদেশে রপ্তানিরও সুযোগ করে দেবে। তবে, জলভরা সন্দেশের পাঁচ থেকে ছয় দিনের সীমিত সংরক্ষণকাল এখনও একটি বড় প্রতিবন্ধকতা হয়ে রয়েছে। এই সমস্যা সমাধানে খাদ্য প্রযুক্তি এবং অণুজীববিজ্ঞান বিষয়ক গবেষণার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন তিনি।
এ বছর হুগলি জেলার তিনটি পণ্য—জনাইয়ের মনোহরা, বালাগড়ের ঐতিহ্যবাহী কাঠের নৌকা এবং বাবনানের চিকন এমব্রয়ডারি—জিআই স্বীকৃতি অর্জন করেছে। সেইসাথে কৃষ্ণনগরের মাটির পুতুল, ফুলিয়ার জামদানি এবং শান্তিনিকেতনের বাটিকসহ পশ্চিমবঙ্গের একাধিক ঐতিহ্যবাহী হস্তশিল্প ও বস্ত্রশিল্পও এই স্বীকৃতি অর্জন করেছে।