শিশুদের জন্য ভারতেও কি নিষিদ্ধ হচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়া? বড় ইঙ্গিত প্রধানমন্ত্রীর

ভারতের শিশুদের জন্য কি এবার অবাধ সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের দিন শেষ হতে চলেছে? সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর একটি বড় মন্তব্যে সেই ইঙ্গিতই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

অস্ট্রেলিয়া সফরে গিয়ে সে দেশের অনূর্ধ্ব-১৬ শিশুদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া নিষিদ্ধ করার আইনটির ভূয়সী প্রশংসা করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি জানিয়েছেন, শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা ও মানসিক স্বাস্থ্যের সুরক্ষায় অস্ট্রেলিয়ার এই পদক্ষেপ বিশ্বকে অনুপ্রাণিত করছে। একই সঙ্গে এই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে ভারতও বড় সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা ভাবছে বলে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন।

ধাপে ধাপে বিধিনিষেধের পথে কেন্দ্র
কেন্দ্রীয় তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রক (MeitY) সূত্রে খবর, ভারত হয়তো একেবারে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করবে না। তার বদলে একটি ‘গ্রেডেড ফ্রেমওয়ার্ক’ বা ধাপে ধাপে নিষেধাজ্ঞা নীতি নিয়ে ভাবনাচিন্তা করা হচ্ছে। এর ফলে বয়সের ওপর ভিত্তি করে শিশুদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের অধিকার ও কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণ করা হবে।

ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও ইউটিউবের মতো বড় প্ল্যাটফর্মগুলোর সাথে বয়স যাচাইকরণ ও কঠোর গাইডলাইন চালুর বিষয়ে বৈঠক শুরু করেছেন।

এগিয়ে এসেছে রাজ্যগুলিও
কেন্দ্রীয় কোনো আইন আসার আগেই ভারতের কয়েকটি রাজ্য ইতিমধ্যেই এই বিষয়ে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া শুরু করেছে। কর্ণাটক ও অন্ধ্রপ্রদেশ যথাক্রমে ১৬ ও ১৩ বছরের কম বয়সীদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা আনার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। পাশাপাশি গোয়া সরকারও এই বিষয়ে বিশেষ সমীক্ষা চালাচ্ছে।

তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ভারতে এই নিয়ম কার্যকর করা এতটা সহজ হবে না।

ব্যবহারকারীর সঠিক বয়স জানতে আধার কার্ডের মতো তথ্য ব্যবহার করলে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা বা প্রাইভেসির সমস্যা দেখা দিতে পারে।

প্রযুক্তিগত নজরদারি এড়িয়ে শিশুরা ভিপিএন (VPN) বা বাবা-মায়ের অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে সোশ্যাল মিডিয়া চালাতে পারে, যা আটকানো বড় চ্যালেঞ্জ।

সব মিলিয়ে, প্রধানমন্ত্রী মোদীর এই বার্তার পর এটা স্পষ্ট যে, শিশুদের সুরক্ষায় ভারত সরকার শীঘ্রই সোশ্যাল মিডিয়া নিয়ন্ত্রণে বড় কোনো পদক্ষেপ নিতে চলেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *