ভারতের সামরিক শক্তি আরও এক ধাপ বৃদ্ধি পেতে চলেছে। ভারত ও রাশিয়ার যৌথ উদ্যোগে তৈরি হওয়া বিখ্যাত সুপারসনিক ক্রুজ মিসাইল ‘ব্রহ্মোস’-এর নতুন ও অত্যাধুনিক সংস্করণ BrahMos-NG (Next Generation) তৈরির কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে। হালকা ওজন, উন্নত রাডার প্রযুক্তি এবং যেকোনো বিমান থেকে নিক্ষেপ করার দক্ষতার কারণে এই মিসাইলটিকে পুরোনো সংস্করণটির চেয়েও বেশি মারাত্মক ও বিপজ্জনক বলে মনে করছেন সামরিক বিশেষজ্ঞরা।
ওজনে হালকা, আকারে ছোট
যেখানে মূল ব্রহ্মোস মিসাইলের ওজন প্রায় ৩,০০০ কেজি (৩ টন), সেখানে নতুন ব্রহ্মোস-এনজি (BrahMos-NG)-র ওজন মাত্র ১,৩০০ থেকে ১,৫০০ কেজি (প্রায় ১.৫ টন)। এর দৈর্ঘ্যও কমিয়ে ৮.৪ মিটার থেকে ৬ মিটার করা হয়েছে। তবে আকৃতিতে ছোট হলেও এর ধ্বংসাত্মক ক্ষমতা আগের তুলনায় কমেনি।
বিমান ও সাবমেরিনের জন্য বরদান
ওজন কম হওয়ায় ভারতের বায়ুসেনা ও নৌসেনা মিসাইলটি ব্যবহারে দারুণ সুবিধা পাবে:
Su-30MKI ফাইটার জেট আগে মাত্র ১টি ব্রহ্মোস নিয়ে উড়তে পারত, কিন্তু এখন একসাথে ৩টি BrahMos-NG বহনে সক্ষম হবে।
ভারতের স্বদেশী হালকা যুদ্ধবিমান LCA Tejas, Rafale এবং MiG-29K-তেও এটি সহজেই যুক্ত করা যাবে।
এটি সাধারণ সাবমেরিনের টর্পেডো টিউব থেকেও নিখুঁতভাবে ফায়ার করা যাবে।
তীব্র গতি ও চোখ ধাঁধানো ‘স্টিলথ’ প্রযুক্তি
পুরোনো ব্রহ্মোসের গতি Mach 2.8 হলেও, নতুন এই মিসাইলটি প্রায় Mach 3.5 গতিতে (শব্দের চেয়ে সাড়ে তিন গুণ দ্রুত) শত্রুর ঘাঁটিতে আঘাত হানবে। পাশাপাশি এতে রয়েছে AESA রাডার সিকার এবং কম ‘রাডার ক্রস-সেকশন’ প্রযুক্তি। এর ফলে শত্রুপক্ষের কোনো এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম বা রাডারে এটি সহজে ধরা পড়বে না।
বিশ্লেষকদের মতে, BrahMos-NG যুক্ত হলে ভারতের স্থল, জল ও আকাশপথের আক্রমণ ক্ষমতা আগের তুলনায় বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।