২৪ জুলাই, ২০২৬ দীঘার নবনির্মিত বর্ণাঢ্য জগন্নাথ মন্দিরে উল্টো রথযাত্রা অত্যন্ত সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে, যেখানে প্রচুর ভক্ত শ্রীজগন্নাথ, মহাপ্রভু বলভদ্র এবং দেবী সুভদ্রার এই পবিত্র প্রত্যাবর্তন যাত্রার সাক্ষী হয়েছেন।
পূর্ব মেদিনীপুরের অন্যতম প্রধান পর্যটন কেন্দ্র দিঘায় ভক্তি ও শ্রদ্ধার মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হলো ২০২৬ সালের উল্টো রথযাত্রা। সমুদ্রের গর্জন আর “জয় জগন্নাথ” ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে উঠল সমগ্র সৈকত শহর।
সমুদ্র সৈকতের এই শহরটি আজ সম্পূর্ণভাবে আধ্যাত্মিক জোয়ারে ভেসে গিয়েছিল। ‘মাসির বাড়ি’ থেকে সুসজ্জিত রথগুলি ব্যারিকেড দেওয়া দীর্ঘ পথ পেরিয়ে মূল মন্দির কমপ্লেক্সের দিকে এগিয়ে চলে। এই পরম পবিত্র মুহূর্তটির আমরা সাক্ষী হতে পেরে, উপস্থিত সকল পুণ্যার্থী এক গভীর মানসিক শান্তি, অপরিসীম কৃতজ্ঞতা এবং ঐশ্বরিক কৃপা অনুভব করেছেন।
মাসির বাড়ি থেকে মূল মন্দিরের উদ্দেশ্যে রথের যাত্রা। উপকূলবর্তী শহরের রাস্তায় ২ লক্ষেরও বেশি ভক্তের উপস্থিতি।
পরিবেশ এবং ভক্তিমূলক অনুভূতি উপকূলের মনোরম ও হালকা বৃষ্টিভেজা আবহাওয়া আজকের এই প্রত্যাবর্তন উৎসবের মহিমাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। সমাজের সব স্তরের মানুষ আজ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে, ঢাক-ঢোলের আওয়াজ এবং হরেকৃষ্ণ কীর্তনের তালে মেতে উঠেছে।
বঙ্গোপসাগরের উত্তাল হাওয়ার সাথে ভেসে আসা ধূপের গন্ধ, কাঁসর-ঘণ্টার শব্দ এবং হাজার হাজার ভক্তের মুখ নিঃসৃত “জয় জগন্নাথ” ধ্বনি এক অলৌকিক পরিবেশ সৃষ্টি করেছে।
দেশ-বিদেশের পর্যটক এবং স্থানীয় অধিবাসীরা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে রথের রশি স্পর্শ করার জন্য ভিড় জমায়। বিশ্বাস করা হয়, উল্টো রথে রশি টানলে সকল পাপ থেকে মুক্তি মেলে।
দিঘার উল্টো রথযাত্রায় অংশগ্রহণ কেবল একটি ধর্মীয় আচার নয়, এটি এক অদ্ভুত আত্মিক শান্তি প্রদান করে।
“রথের দড়িতে একবার হাত ছোঁয়ানোর আনন্দ এবং জয় জগন্নাথ ধ্বনির মধ্য দিয়ে নিজের ভেতরের সমস্ত ক্লান্তি ও দ্বিধা মুছে যাওয়ার নামই ভক্তি।”
দিঘা উল্টো রথযাত্রা ২০২৬ সমুদ্রের বিশালতা এবং জগন্নাথ দেবের অপার করুণাকে একসুতোয় বেঁধেছে। ভক্তি, রূপ ও প্রকৃতির এই অপূর্ব মেলবন্ধন প্রতিটি দর্শনার্থী ও ভক্তের মনে চিরকাল অমলিন হয়ে থাকবে।