পূর্বস্থলীর নতুনগ্রাম আবারও কাঠের পুতুল তৈরির কাজে প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছে। দুর্গাপূজার এই বিশেষ মৌসুমে, এই গ্রামের দক্ষ শিল্পীদের তৈরি পুতুলগুলি মুম্বই, কলকাতা, শিলিগুড়ি, আসানসোল সহ রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় পৌঁছে যাচ্ছে। মণ্ডপসজ্জায় নতুনগ্রামের ঐতিহ্যবাহী কাঠের শিল্পের চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় শিল্পীরাও খুবই উচ্ছ্বসিত।
সম্প্রতি, নতুনগ্রামের কাঠের পুতুলটি জিআই স্বীকৃতি পেয়েছে, যা এর পরিচিতি আরও সম্প্রসারিত করেছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল ছাড়াও বিদেশে এই শিল্পের দীর্ঘকালীন কদর রয়েছে। গ্রামের শিল্পীরা রাষ্ট্রপতি পুরস্কার উদযাপন করেছেন এবং রাজ্যের হস্তশিল্পের উন্নয়নে ইউনেস্কোর সহযোগিতায় গঠিত হাবের তালিকাতেও নতুনগ্রামের এই শিল্প স্থান অর্জন করেছে।
পুজোর আগমনকে সামনে রেখে বরাতের চাপ এখন চরমে পৌঁছেছে। শিল্পী গৌরাঙ্গ ভাস্করের নির্মিত কাঠের রাজা-রানি, পেঁচা ও জগন্নাথের মূর্তিগুলি মুম্বইয়ের একটি পুজোমণ্ডপে প্রেরণ করা হচ্ছে। এছাড়া, আসানসোলের আরেকটি মণ্ডপের জন্য যাচ্ছে ৫০টি কাঠের দারোয়ান, ২০০টি গৌর-নিতাই এবং প্রায় ৭০০টি কাঠের পেঁচা। ফলে, গ্রামের কারিগররা দিন-রাত একান্ত পরিশ্রম করে চলেছেন।
শুধু পুতুল তৈরিতেই নয়, শিল্পীদের সৃজনশীলতা ও পরিসরও সম্প্রসারিত হচ্ছে। শিল্পী উত্তম ভাস্কর কাঠের বারকোশের উপর নবদুর্গার নয়টি রূপ ফুটিয়ে তোলার কাজ শুরু করেছেন। এই কৃতিত্ব শিলিগুড়ির এক মণ্ডপে প্রদর্শনের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে।
কলকাতার বিভিন্ন পুজোমণ্ডপে প্রতি বছরের মতো নতুনগ্রামের কাঠের পুতুলের স্টল স্থাপন করা হয়। পুজোর এই বিশেষ সময়ে শিল্পীরা সেখানে বিক্রির আশায় থাকেন। তাঁদের প্রত্যাশা, জিআই স্বীকৃতির মাধ্যমে এই ঐতিহ্যবাহী শিল্পের বাজার আগামীতে আরও বিস্তৃত হবে।
পুজোর পরিবেশে নতুনগ্রামে এখন প্রচুর কর্মকাণ্ড দেখা যাচ্ছে। কাঠের গায়ে শিল্পীদের নিপুণ হাতের ছোঁয়ায় তৈরি হচ্ছে অজস্র পুতুল। এই সৃষ্টি এবার বাংলার সীমানা ছাড়িয়ে মুম্বাইয়ের পুজোমণ্ডপেও পৌঁছাচ্ছে।