বিশিষ্ট মৃদঙ্গম শিল্পী এবং সংগীতজ্ঞ শ্রীধর পার্থসারথির মৃত্যুর খবর শুনে সংগীত জগত শোকস্তব্ধ হয়ে পড়েছে। তাঁর প্রয়াণে গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছেন খ্যাতনামা গায়ক ও সুরকার শঙ্কর মহাদেবন। সামাজিক মাধ্যমে তিনি এক আবেগঘন পোস্টে প্রয়াত শিল্পীর সঙ্গে চার দশকের দীর্ঘ সংগীতভ্রমণের স্মৃতিচারণ করেছেন।
ইনস্টাগ্রামে শ্রীধর পার্থসারথির একটি সাদা-কালো পুরনো ছবি শেয়ার করে শঙ্কর জানিয়েছেন, প্রায় ৪০ বছর আগে তাঁর প্রথম কর্নাটিক শাস্ত্রীয় সংগীতের আসরে মৃদঙ্গম বাজিয়েছিলেন উনি। সেই দিন থেকেই তাদের সম্মিলিত সংগীত যাত্রা শুরু হয়। এরপর দীর্ঘ চার দশক ধরে সেখানে অসংখ্য সংগীতের মুহূর্ত, আড্ডা, হাসি-ঠাট্টা এবং স্মৃতি বিনিময় হয়েছে।
শোকবার্তায় শঙ্কর উল্লেখ করেন যে, শ্রীধরের আকস্মিক মৃত্যু তিনি কিছুতেই গ্রহণ করতে পারছেন না। তাঁর মতে, শ্রীধর ছিলেন একজন অসাধারণ প্রতিভাধর মৃদঙ্গম বাদক ও ব্যতিক্রমী সংগীতশিল্পী। তাঁর মৃত্যু শুধু তাঁর পরিবারই নয়, বরং পুরো সংগীত জগতের জন্য একটি অপূরণীয় ক্ষতি। সবচেয়ে দূর্ভাগ্যজনক ব্যাপার হলো, তিনি মঞ্চে সংগীত পরিবেশন করতে গিয়েই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। এই বিষয়টি তুলে ধরতে গিয়ে শঙ্কর বলেন, সংগীত পরিবেশন করতে করতেই শিল্পীর চলে যাওয়া যেন তাঁর জীবন থেকে এক আবেগঘন বিদায়ের চিত্র। প্রয়াত শিল্পীর পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে শঙ্কর তাঁদের এই কঠিন সময়ে শক্তি এবং সমর্থন লাভের জন্য ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনাও করেছেন। বার্তাটির শেষে, শঙ্কর শ্রীধরের প্রতি তাঁর ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন।
শ্রীধর পার্থসারথি শাস্ত্রীয় সংগীতের ঐতিহ্যবাহী পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছিলেন এবং তিনি একজন বিশিষ্ট মৃদঙ্গম বাদক হিসেবে পরিচিতি অর্জন করেছেন। ভারতীয় শাস্ত্রীয় সংগীতের পাশাপাশি, বিভিন্ন রকমের শিল্পীদের সঙ্গে সঙ্গীতের ক্ষেত্রে তাঁর অভিজ্ঞতা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। শঙ্কর মহাদেবন, লুই ব্যাঙ্কস, কার্ল পিটার্স এবং তৌফিক কুরেশির মতো প্রখ্যাত শিল্পীদের সঙ্গে তাঁর যৌথ কাজ প্রশংসিত হয়েছে। তিনি আন্তর্জাতিক নানা কনসার্ট হলে এবং সংগীত উৎসবে মঞ্চে উঠেছেন এবং সেখানেও তাঁর প্রতিভা উজ্জ্বল হয়েছে।
তাঁর অকাল প্রয়াণে সংগীত জগতের একটি বিশাল শূন্যতা তৈরি হয়েছে। শঙ্কর মহাদেবনের কথায়, একজন শিল্পীর অবদান শুধুমাত্র তাঁর সৃষ্টি দ্বারা নয়, বরং সহশিল্পীদের মাঝে রেখে যাওয়া ভালোবাসা ও স্মৃতি দিয়েও চিরকাল বেঁচে থাকে।