সুরে-ছন্দে স্মরণে শ্রী কাজল সেনগুপ্ত

রবীন্দ্রসঙ্গীত জগতের বিশিষ্ট শিল্পী এবং সর্বভারতীয় সঙ্গীত ও সংস্কৃতি পরিষদের প্রাক্তন সম্পাদক প্রয়াত শ্রী কাজল সেনগুপ্তের ৮৩তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে গত ৬ অক্টোবর জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়ির রথীন্দ্রমঞ্চে অনুষ্ঠিত হল এক মনোজ্ঞ স্মরণানুষ্ঠান। তাঁর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে সঙ্গীত, আবৃত্তি ও নৃত্যের এক বর্ণময় সাংস্কৃতিক পরিবেশনা দর্শকদের মুগ্ধ করে।
অনুষ্ঠানের সূচনায় বক্তব্য রাখেন প্রয়াত শিল্পীর সুপুত্র এবং সর্বভারতীয় সঙ্গীত ও সংস্কৃতি পরিষদের সম্পাদক ড. শান্তনু সেনগুপ্ত। পিতার শিল্পীজীবন, সঙ্গীতসাধনা এবং সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে তাঁর অবদানের কথা স্মরণ করে তিনি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।


এরপর একে একে মঞ্চে পরিবেশিত হয় সমবেত সঙ্গীত ও আবৃত্তি। সর্বভারতীয় সঙ্গীত ও সংস্কৃতি পরিষদের অধীনস্থ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ও কেন্দ্রের শিল্পীরা এই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন। উল্লেখযোগ্যভাবে উপস্থিত ছিল শুভম সঙ্গীত নিকেতন, ময়ূরী কলা কেন্দ্র, ছন্দছায়া আবৃত্তি অ্যাকাডেমি-সহ আরও বহু সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের শিল্পী ও শিক্ষার্থীরা।

অনুষ্ঠানে বিশেষ আবেগের মুহূর্ত তৈরি হয় যখন পরিবেশনায় অংশ নেয় ‘সোহিনী সাহানা’—প্রয়াত কাজল সেনগুপ্তের নিজের হাতে গড়ে তোলা সঙ্গীত শিক্ষাকেন্দ্র। তাঁর সঙ্গীতচর্চা ও সাংস্কৃতিক আদর্শকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে এই প্রতিষ্ঠান আজও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছে।

সমগ্র অনুষ্ঠানজুড়ে প্রতিফলিত হয় কাজল সেনগুপ্তের শিল্পীসত্তা ও সাংস্কৃতিক ভাবনার উত্তরাধিকার। সঙ্গীত ও আবৃত্তির পর অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে মনোমুগ্ধকর কয়েকটি নৃত্য পরিবেশনার মধ্য দিয়ে।
জোড়াসাঁকোর ঐতিহ্যবাহী পরিবেশে সঙ্গীত ও সংস্কৃতির এই মিলনমেলা শুধু এক প্রয়াত শিল্পীকে স্মরণ করার অনুষ্ঠান হয়ে থাকেনি; বরং তাঁর দীর্ঘ সাংস্কৃতিক সাধনা ও পরবর্তী প্রজন্মের শিল্পীদের মধ্যে গড়ে ওঠা সেতুবন্ধনেরও এক উজ্জ্বল প্রকাশ হয়ে উঠেছিল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *