ঐতিহ্য, শিল্প ও সংস্কৃতির মিলনমেলায় উজ্জ্বল হয়ে উঠেছিল প্রতিরোধ বাহিনীর ৫৩তম বর্ষপূর্তি উদ্যাপন। ১৫ ও ১৬ অক্টোবর বাঙ্গুর অ্যাভিনিউয়ের এ ব্লকে অনুষ্ঠিত এই বিশেষ অনুষ্ঠানে অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিল সুর লহরী নৃত্যায়নের মনোমুগ্ধকর আগমনী নৃত্য পরিবেশনা। এই দুই দিনের সাংস্কৃতিক আয়োজন দর্শকদের মনে শারদোৎসবের উষ্ণ আবহ তৈরি করেছে।
সর্বভারতীয় সঙ্গীত ও সংস্কৃতি পরিষদের অনুমোদিত শিক্ষিকা এবং পরীক্ষক নৃত্যশিল্পী রত্নমণি ঝুমুর ঘোষের পরিচালনায় সুর লহরী নৃত্যায়নের শিল্পীরা তাঁদের অসাধারণ নৃত্য নৈপুণ্য ও সৃজনশীলতার মাধ্যমে আগমনের শুভ বার্তাকে জীবন্ত করে তুলেছেন। ধাপে ধাপে পরিবেশিত নৃত্যগুলি উমার মর্ত্যে ফিরে আসার আবেগ, বাঙালির চিরন্তন শারদীয় অনুভূতি এবং দেবীবন্দনার অন্তর্নিহিত তাৎপর্য উজ্জ্বলভাবে তুলে ধরেছে। প্রতিটি পরিবেশনা ছিল বিশেষ ভাবনা, পরিকল্পনার অভিনবত্ব এবং নান্দনিক উপস্থাপনায় সমৃদ্ধ। শিল্পীদের সাবলীল পদক্ষেপ, অভিব্যক্তি এবং ছন্দের সঙ্গম দর্শকদের মুগ্ধ করেছে।
আগমনী ভাবনাকে নৃত্যের ভাষায় এমন চমৎকার উপস্থাপনায় অনুষ্ঠানটি একটি বিশেষত্ব অর্জন করে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ড. শারস্বত মুখোপাধ্যায়, শ্রী মৃগাঙ্ক ভট্টাচার্য এবং শ্রী অতীন রায়। তাঁদের উপস্থিতি অনুষ্ঠানের গুরুত্বকে আরও বাড়িয়ে তোলে। দু’দিনের এই সাংস্কৃতিক আয়োজনকে সফল এবং সুশৃঙ্খল করে তোলার জন্য বিশেষ ভূমিকা নেন সাংস্কৃতিক সম্পাদক শ্রীমতি দেবশ্রী ভট্টাচার্য এবং শ্রী অমিত রায়। তাঁদের পরিকল্পনা, সমন্বয় এবং সাংগঠনিক দক্ষতার ফলে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীটি হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত ও স্মরণীয়।
অনুষ্ঠানের বিশেষ পর্বে নৃত্যশিল্পী রত্নমণি ঝুমুর ঘোষ এবং তাঁর দলের সকল শিল্পীদের শংসাপত্র, স্মারক এবং উত্তরীয় প্রদান করে সম্মানিত করা হয়। তাঁদের শিল্পকলা, নিষ্ঠা এবং সাংস্কৃতিক অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এই সম্মাননা দেওয়া হয়। এই সম্মাননা শিল্পীদের উৎসাহিত করার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক চর্চার প্রতি আগ্রহ ও প্রশংসা বাড়ায়।