অবশেষে বিদায়! ২৩ বছরের আন্তর্জাতিক কেরিয়ারে ইতি টানলেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো

সমাজমাধ্যমে একটি আবেগঘন ভিডিও বার্তার মাধ্যমে ৪১ বছর বয়সী রোনাল্ডো তার অবসরের সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেন। ২০০৩ সালের আগস্টে পর্তুগালের হয়ে তিনি আন্তর্জাতিকভাবে ফুটবলে পা রাখেন, আর তারপর থেকে কেটেছে ২৩ বছর। এই দীর্ঘ সময়ে, তিনি দেশের হয়ে ২৩৪টি ম্যাচ খেলে ১৪৬টি গোল করেছেন। পর্তুগালের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়া ছাড়াও, তিনি জাতীয় দলকে নেতৃত্ব দিয়ে ২০১৬ সালে ইউরো কাপ এবং ২০১৯ ও ২০২৫ সালে উয়েফা নেশনস লিগে সাফল্য এনে দিয়েছেন।

বিদায় জানিয়ে রোনাল্ডো বলেন, জাতীয় দলের ৭ নম্বর জার্সিটি তার জন্য শুধুমাত্র একটি পরিচয় ছিল না, বরং এটি গর্ব এবং দায়িত্বের প্রতীক। দীর্ঘ এতো বছর ধরে এই জার্সি গায়ে পরে থাকতে পারা, তিনি নিজেকে জীবনের অন্যতম বৃহত্তম সম্মান হিসেবে মনে করেন। এখন সময়ে এসেছে, এই দায়িত্ব ভবিষ্যৎ প্রজন্মের হাতে তুলে দেওয়ার।

রোনাল্ডোর এই ঘোষণায় আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েছে পর্তুগাল ফুটবল সম্প্রদায়। দেশের ফুটবলে তার অসামান্য অবদানের জন্য গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশন। তারা মনে করে, রোনাল্ডো শুধু পর্তুগালের ফুটবলকে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দেননি, বরং কয়েক প্রজন্মের তরুণ ফুটবলারকে স্বপ্ন দেখানোর পথও সুগম করেছেন। তাঁকে সম্মান জানাতে বিশেষ একটি বিদায়ী অনুষ্ঠান আয়োজনের পরিকল্পনাও করছে ফেডারেশন।

তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জাতীয় দলে রোনাল্ডোর ভূমিকা নিয়ে কিছু বিতর্কও দেখা দিয়েছে। বয়সের সঙ্গে তাঁর খেলার ধরণ এবং নতুন প্রজন্মের ফুটবলারদের সঙ্গে সমন্বয় নিয়ে একাধিক প্রশ্ন উঠেছে। কোচ ফার্নান্দো স্যান্টোস ও রবার্তো মার্তিনেজের অধীনে তাঁকে মূল একাদশে অন্তর্ভুক্ত ও দলের কৌশলের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার বিষয়টি ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে। একদিকে রোনাল্ডোর অভিজ্ঞতা, অন্যদিকে তরুণদের উত্থান—দলের ভারসাম্য বজায় রাখা ক্রমশ একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিশ্বকাপের মঞ্চে সাফল্যের আশাটি রোনাল্ডোর জন্য অবশেষে অধরাই থেকে গেছে। ২০১৪ সালে জার্মানির বিরুদ্ধে ৪-০ গোলের পরাজয়ের ফলে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিতে হয় পর্তুগালকে। পরবর্তী বিশ্বকাপগুলোতেও কাঙ্ক্ষিত ট্রফি ভিন্ন ছিল। ২০২৬ সালের বিশ্বকাপে শক্তিশালী একটি দল নিয়েও পর্তুগালকে আশা অনুযায়ী সাফল্য লাভ হয়নি। স্পেনের কাছে নকআউট পর্বে পরাজয় সেই স্বপ্নে আরেকবার আঘাত হানে।

তবে পর্তুগালের ফুটবল ইতিহাসে রোনাল্ডোর নাম চিরকাল স্বর্ণাক্ষরে থাকবে। আন্তর্জাতিক ফুটবলে ১৪৬টি গোল, ইউরোপ সেরার খেতাব এবং অসংখ্য স্মরণীয় পারফরম্যান্স তাঁকে দেশের সর্বকালের অন্যতম সেরা ফুটবলার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। তাঁর ক্লাব ক্যারিয়ার এবং জাতীয় দলের হয়ে গড়া রেকর্ডও দীর্ঘ সময় ধরে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে।
২৩ বছরের সম্পর্কের সমাপ্তি। বিদায় নিলেন পর্তুগালের ৭ নম্বর জার্সি! কিন্তু রোনাল্ডো নামের এই ফুটবল অধ্যায় কি এত সহজে শেষ হবে? উত্তর এখনো অজানা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *