মাত্র ১৩ বছর বয়সে তিনি দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছিলেন, আর তার চোখের সামনে নেমে এসেছিল স্থায়ী অন্ধকার। তবে মার্কিন পর্বতারোহী এরিক উইহেনমায়ার সেই অন্ধকারকে তার স্বপ্নের পথে প্রতিবন্ধকতা হতে দেননি। দৃষ্টি ছাড়াই তিনি দুর্গম পাহাড়ের পথ পেরিয়ে পৌঁছে গেছেন বিশ্বের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ, এভারেস্টের চূড়ায়।
এরিক রেটিনোস্কিসিস নামে একটি চোখের রোগের কারণে কৈশোরেই সম্পূর্ণ দৃষ্টিহীন হয়ে যান। যদিও তার জীবন পরিবর্তিত হয়েছিল, তবুও তিনি থেমে থাকেননি। শুরু করেন রক ক্লাইম্বিং এবং ধীরে ধীরে নিজেকে কঠোর পর্বতারোহণের জন্য প্রস্তুত করতে থাকেন।
চোখের অভাবকে পেছনে ফেলে এগিয়ে যাওয়ার জন্য এরিক নির্ভর করেছিলেন স্পর্শ, শব্দ এবং তার সতীর্থদের বিশেষ সংকেতের উপর। তিনি দড়ি, পাথর এবং বরফের অবস্থান অনুভব করে হাত-পায়ের ব্যবহার করে পথ চলতেন। কখনো গাইডের কণ্ঠস্বর কিংবা কখনো ঘণ্টা বা বেলের শব্দ তাকে সঠিক দিকনির্দেশনা দিত।
২০০১ সালে তার জীবনের এক বিশেষ দিন আসে। আরওহণের পথে দুর্গমতা, প্রবল ঠাণ্ডা, তীব্র বাতাস, বরফের গহ্বর এবং অক্সিজেনের অভাবের মতো কঠিন পরিস্থিতিকে তিনি সাহসিকতার সঙ্গে মোকাবিলা করেন এবং অবশেষে এভারেস্টের চূড়ায় পৌঁছান। সম্পূর্ণ দৃষ্টিহীন অবস্থায় তিনি বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গে পৌঁছাতে সক্ষম হন এবং এভাবে ইতিহাসে নিজের নাম লেখান।
তবে এভারেস্টের শীর্ষে পৌঁছানোর পরও তাঁর অভিযান থেমে থাকেনি। তিনি বিশ্বের সাত মহাদেশের সর্বোচ্চ সাতটি শৃঙ্গ জয় করে ‘সেভেন সামিটস’ সম্পূর্ণ করেন। দৃষ্টিহীন হয়েও এই অসাধারণ সফলতা তাঁকে বিশ্বব্যাপী একটি অনন্য অভিযাত্রী হিসেবে পরিচিত করে তোলে।
পর্বতারোহণের পাশাপাশি প্রতিবন্ধকতা জয় করার একটি শক্তিশালী বার্তাও তিনি প্রচার করেছেন। ‘No Barriers’ উদ্যোগের মাধ্যমে এরিক মানুষকে তাদের শারীরিক সীমাবদ্ধতার বাইরেও নিজের সম্ভাবনাকে কার্যকর করতে অনুপ্রাণিত করে চলেছেন।
এরিক উইহেনমায়ারের গল্পটি তাই শুধু একটি পাহাড় জয়ের কাহিনি নয়। এটি আমাদের দেখাশোনা করে যে, চোখটি পথ দেখতে না পেলেও স্বপ্নের দিশা হারানো সম্ভব নয়। দৃঢ় সংকল্প ও সাহস থাকলে অন্ধকারের মধ্যে থেকেও বিশ্বের সর্বোচ্চ শৃঙ্গের চূড়ায় পৌঁছানো সম্ভব।