আজ শারদীয়া দুর্গাপূজার মহাষষ্ঠী এবং নবরাত্রি-র ষষ্ঠ দিন। বাঙালি সংস্কৃতিতে এই দিনটির গুরুত্ব অপরিসীম, কারণ আজ থেকেই দেবী দুর্গার মূল পূজা ও বোধন শুরু হয়। অন্যদিকে, নবরাত্রির ষষ্ঠ দিনে দেবী দুর্গার ষষ্ঠ অবতার মা কাত্যায়নী-র আরাধনা করা হয়।
বাঙালি সনাতন ধর্মে মহাষষ্ঠী হলো সেই পুণ্য লগ্ন, যখন মা দুর্গা তাঁর চার সন্তান—লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক ও গণেশকে নিয়ে মর্ত্যলোকে বা বাপের বাড়ি এসে পৌঁছান। ষষ্ঠীর দিন সন্ধ্যায় বেলতলায় দেবীর বোধন, আমন্ত্রণ ও অধিবাস সম্পন্ন হয়, যার মাধ্যমে পূজার মূল আচার-অনুষ্ঠান আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়। ঢাকের আওয়াজ, শাঁখের ধ্বনি আর ধুনুচির গন্ধে চারদিক উৎসবমুখর হয়ে ওঠে।
নবরাত্রির ষষ্ঠ দিনে মা কাত্যায়নীর পূজা করা হয়। মহর্ষি কাত্যায়নের আশ্রমে অবতীর্ণ হওয়ায় তাঁর নাম কাত্যায়নী। তিনি দেবী দুর্গার এক অত্যন্ত উগ্র অথচ মমতাময়ী রূপ, যিনি মহিষাসুর বধের জন্য দেবী মাহাত্ম্যে প্রধান ভূমিকা পালন করেছিলেন। চারটি হাত, সিংহবাহিনী এবং হাতে খড়্গ ও পদ্ম ধারণ করা এই রূপটি শক্তি ও সাহসের প্রতীক।
ভারতীয় ধ্রুপদী নৃত্যে (Classical Dance) বিশেষ করে ভরতনাট্যম, কথাকলি, ওড়িশি এবং গৌড়ীয় নৃত্যে মা কাত্যায়নীর এই রূপটিকে অত্যন্ত সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়:
- দেবীর মহিষাসুর মর্ধিনী রূপটি ফুটিয়ে তুলতে নৃত্যশিল্পীরা ‘বীর’ এবং ‘রৌদ্র’ রসের আশ্রয় নেন। শাস্ত্রীয় নৃত্যের তীব্র মুদ্রার (যেমন করালা বা খড়্গ মুদ্রা) মাধ্যমে দেবীর অসুর বধের দৃশ্যটি মঞ্চে জীবন্ত হয়ে ওঠে।
- শ্রীমদ্ভাগবত পুরাণ অনুসারে, ব্রজের গোপীগণ কৃষ্ণকে পতিরূপে পাওয়ার জন্য যমুনা তীরে মা কাত্যায়নীর পূজা করেছিলেন। ধ্রুপদী নৃত্যের ‘লাস্য’ বা কোমল অঙ্গভঙ্গির মাধ্যমে দেবীর এই বরদায়ী ও করুণাময়ী রূপের বন্দনা করা হয়।
এই বিশেষ দিনটির জন্য নির্ধারিত রঙ হলো সবুজ।
•সবুজ রঙ নতুন সূচনা, প্রকৃতি, প্রবৃদ্ধি এবং সমৃদ্ধির প্রতীক। মা কাত্যায়নী যেমন সমস্ত বাধা দূর করে জীবনে নতুন শক্তি ও উর্বরতা নিয়ে আসেন, সবুজ রঙ ঠিক সেই ভাবটিকেই প্রকাশ করে।
- এই দিনে বাঙালি নারীরা সাধারণত লাল পাড় সবুজ শাড়ি বা ঢাকাই জামদানি এবং পুরুষরা সবুজ পাঞ্জাবি পরে মণ্ডপে মণ্ডপে ষষ্ঠীর অঞ্জলি দিতে ও ঠাকুর দেখতে ভালোবাসেন। এটি উৎসবের আমেজকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে।