উত্তরবঙ্গের গ্রামীণ নারীদের প্রস্তুতকৃত হাতে তৈরি চা আন্তর্জাতিক বাজারে সমৃদ্ধি লাভের জন্য নতুন একটি প্রশিক্ষণ কর্মসূচির সূচনা করা হয়েছে। ইউরোপে পরিবেশবান্ধব এবং ভিন্ন স্বাদের হ্যান্ডমেড চায়ের বৃদ্ধি পাওয়া চাহিদাকে সামনে রেখে এই উদ্যোগের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
এই প্রশিক্ষণে দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কোচবিহার ও উত্তর দিনাজপুরের বিভিন্ন স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সদস্যরা অংশ নিচ্ছেন। বিশেষজ্ঞদের পরিচালনায় তাঁদের শেখানো হচ্ছে কিভাবে কম রাসায়নিক ব্যবহারের মাধ্যমে উচ্চমানের চা উৎপাদন সম্ভব এবং আন্তর্জাতিক বাজারের মানদণ্ডে উন্নতি করা যায়।
উদ্যোক্তাদের মতে, শুধুমাত্র চা উৎপাদনের ক্ষেত্রেই নয়, বরং বাজারজাতকরণ, ব্র্যান্ডিং এবং ব্যবসায়িক পরিকল্পনার প্রশিক্ষণও মহিলাদের প্রদানের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এর ফলে তারা নিজেদের তৈরি চা দেশে এবং বিদেশে ক্রেতাদের কাছে আরও কার্যকরভাবে পৌঁছে দিতে সক্ষম হবে।
আগেই উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন স্বনির্ভর গোষ্ঠীর উৎপাদিত গ্রিন টি, হোয়াইট টি এবং অর্থোডক্স চা বিভিন্ন প্রদর্শনী ও বিপণন মেলায় ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করেছে। এ সাফল্যকে ভিত্তি করে এবার বিদেশের বাজারে প্রবেশের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
অন্য দিকে, চা চাষকে আরও টেকসই করার জন্য নতুন প্রযুক্তি হিসেবে জৈব কার্বন উৎপাদনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। চা গাছের ছাঁটাই করা ডালপালা এবং কৃষিজ বর্জ্য ব্যবহার করে মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি করার পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথে এগোচ্ছি। কিছু ক্ষুদ্র চা কারখানায় পরীক্ষামূলকভাবে এই প্রকল্পের কার্যক্রম শুরু করার প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে।
এছাড়াও, ক্ষুদ্র চা বাগানের উৎপাদিত চায়ের পরিচিতি ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্যাকেটে বিশেষ কিউআর কোড এবং বারকোড যুক্ত করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ক্রেতারা কোড স্ক্যান করলে চায়ের উত্স, উৎপাদন প্রক্রিয়া এবং প্রস্তুতকারীদের সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানতে পারবেন।
চা শিল্পের সাথে জড়িত সম্প্রদায়ের প্রত্যাশা, এই প্রকল্প উত্তরবঙ্গের নারীদের অর্থনৈতিকভাবে আরও স্বশাসিত করবে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে এই অঞ্চলের চায়ের নতুন পরিচিতি তৈরি করবে।