সাধারণ মানুষের পকেটে বড়সড় টান মেরে দেশজুড়ে পেট্রোল ও ডিজেলের খুচরো দাম একধাক্কায় অনেকটা বাড়িয়ে দিল রাষ্ট্রায়ত্ত তেল বিপণন সংস্থাগুলি (OMCs)। আজ, শুক্রবার (১৫ মে, ২০২৬) থেকেই এই নতুন বর্ধিত দর কার্যকর হয়েছে। প্রতি লিটার পেট্রোল ও ডিজেলের মূল দাম বাড়ানো হয়েছে ৩ টাকা পর্যন্ত।
এর পাশাপাশি, কম্প্রেসড ন্যাচারাল গ্যাস বা সিএনজি (CNG)-র দামও প্রতি কেজিতে ২ টাকা করে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে সাধারণ নিত্যযাত্রী থেকে শুরু করে বাণিজ্যিক পরিবহন ক্ষেত্র—সবার ওপরেই আর্থিক চাপ আরও বাড়ল।
প্রধান মেট্রো শহরগুলিতে জ্বালানির নতুন হার
অন্ধ্রপ্রদেশ, তেলেঙ্গানা এবং কেরলের মতো বেশ কয়েকটি রাজ্যে খুচরো পেট্রোলের দাম ইতিমধ্যেই ১১০ টাকার গণ্ডি পার করে গেছে। এর মধ্যে অন্ধ্রপ্রদেশে পেট্রোলের দাম অন্যতম সর্বোচ্চ—প্রতি লিটার ১১৩.০৩ টাকা।

হঠাৎ কেন এই মূল্যবৃদ্ধি?
দীর্ঘদিন খুচরো জ্বালানির দাম অপরিবর্তিত রাখার পর, আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার জেরেই শেষ পর্যন্ত দাম বাড়াতে বাধ্য হয়েছে তেল সংস্থাগুলি।
পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত: মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমাগত উত্তেজনা এবং বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেলের জলপথ ‘হরমুজ প্রণালী’ (Strait of Hormuz) অবরুদ্ধ হয়ে পড়ায় বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহের চেইন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।
১০০ ডলার পার অপরিশোধিত তেল: আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের বেঞ্চমার্ক ‘ব্রেন্ট ক্রুড’-এর দাম গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ক্রমাগত প্রতি ব্যারেল ১০০ থেকে ১০৫ ডলারের আশেপাশে ঘোরাফেরা করছে। ভারতের মতো দেশের জন্য এটি অত্যন্ত উদ্বেগের, কারণ দেশীয় চাহিদার প্রায় ৯০% অপরিশোধিত তেলই ভারতকে আমদানি করতে হয়।
তেল সংস্থাগুলির বিপুল লোকসান: আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়া সত্ত্বেও সাধারণ মানুষকে স্বস্তি দিতে রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলি (IOCL, BPCL, এবং HPCL) গত কয়েক সপ্তাহ ধরে লোকসান সহ্য করে আসছিল। শিল্প বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্ববাজারের সাথে দেশীয় দামের সামঞ্জস্য না থাকায় এই সংস্থাগুলিকে প্রতিদিন প্রায় ১,০০০ থেকে ১,২০০ কোটি টাকার বিপুল ক্ষতির সম্মুখীন হতে হচ্ছিল।