নিম্নমূল্যের কাগুজে নোটের স্থায়িত্ব বাড়ানো এবং জাল নোট রোধে একটি বড় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে কেন্দ্র। রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়ার (RBI) সুপারিশক্রমে, সরকার ১০ টাকা এবং ২০ টাকা মূল্যমানের ১০০ কোটি করে প্লাস্টিক বা পলিমার ব্যাংকনোট তৈরির প্রস্তাবে সবুজ সংকেত দিয়েছে।
এই নতুন নোটগুলি মূলত পরীক্ষামূলকভাবে বাজারে ছাড়া হবে (Field Trial)। নোট ব্যবহারের অভিজ্ঞতা এবং এগুলির সার্বিক পারফরম্যান্স মূল্যায়নের পরেই সার্বিকভাবে কাগুজে নোটের পাশাপাশি সাধারণ সঞ্চালনের জন্য বাজারে ছাড়া হবে।
পলিমার নোটগুলি শুরুতেই পুরো দেশের কাগুজে নোটকে সরিয়ে দেবে না। প্রথম ধাপে ১০০ কোটি করে ১০ ও ২০ টাকার নোট পরীক্ষামূলকভাবে বাজারে ছেড়ে সেগুলির স্থায়িত্ব পরীক্ষা করা হবে।
নতুন প্লাস্টিক নোট এলেও বর্তমানে বাজারে থাকা ১০ টাকা ও ২০ টাকার কাগুজে নোট সম্পূর্ণরূপে বৈধ থাকবে এবং পাশাপাশি চালু থাকবে।
নোট তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় ‘পলিমার সাবস্ট্রেট’ কেনার কাজ প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। আরবিআই সূত্রে জানা গেছে, আগামী অর্থবছরের শুরুতেই এই নোটগুলি বাজারে ট্রায়ালের জন্য আনা হতে পারে।
পলিমার বা প্লাস্টিক নোট চালুর কারণ:
১০ ও ২০ টাকার মতো কম মূল্যের কাগুজে নোট হাতবদলের কারণে খুব দ্রুত ছিঁড়ে বা নষ্ট হয়ে যায়। পলিমার নোট সাধারণ কাগুজে নোটের তুলনায় ৩ থেকে ৪ গুণ বেশি স্থায়ী হয়।
এই নোটগুলি প্লাস্টিকজাতীয় উপাদানে তৈরি হওয়ায় জল, ঘাম বা ময়লায় সহজে নষ্ট হয় না এবং দুর্ঘটনাবশত ধুয়ে গেলেও অক্ষত থাকে।
নোট দীর্ঘদিন টেকসই থাকায় নতুন নোট ছাপানো ও পুরানো ছেঁড়া নোট বদলানোর খরচ অনেকটাই কমে আসবে।
পলিমার সাবস্ট্রেটে নতুন ধরনের নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য (Security Features) যুক্ত করা সহজ, যা জাল নোট তৈরি করা অত্যন্ত কঠিন করে তোলে।