অস্ট্রেলিয়ার লা ট্রোব বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সম্মানজনক ডক্টরেট খেতাব পেয়ে আবেগে আপ্লুত হলেন বলিউড তারকা রানি মুখোপাধ্যায়। মেলবোর্নের ফেডারেশন স্কোয়ারে অনুষ্ঠিত বিশেষ একটি অনুষ্ঠানে তাঁকে Honorary Doctor of Letters সম্মাননার জন্য নির্বাচিত করা হয়। ২০২৬ সালের ইন্ডিয়ান ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল অব মেলবোর্ন (IFFM)-এর অংশ হিসেবে এই আয়োজন করা হয়েছিল।
সম্মাননার আগে মঞ্চে রানির তিন দশকের অভিনয় জীবনের নানা সফলতা ও প্রাসঙ্গিক চরিত্র সম্পর্কে আলোচনা করা হয়। তাঁর দীর্ঘ ক্যারিয়ারের কথা শুনতে শুনতে আবেগে ভেসে যান রানি। চোখের জল মুছতে মুছতে নিজেকে সামলে নেয়ার চেষ্টা করেন তিনি। পরে হাসিমুখে সম্মাননা গ্রহণ করেন রানি।
লা ট্রোব বিশ্ববিদ্যালয় ভারতীয় সিনেমায় তাঁর অবদান ও নারী, শিশু এবং প্রান্তিক মানুষের অধিকারের জন্য তাঁর সামাজিক কার্যক্রম এবং সচেতনতা বৃদ্ধির ভূমিকা স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁকে সম্মানিত করেছে।
রানি এই সাম্মানিক ডক্টরেটকে তাঁর জীবনের অন্যতম বিনয়ী ও আবেগঘন মুহূর্ত বলে উল্লেখ করেন। ভারতীয় হিসেবে এই সম্মান গ্রহণ করতে পেরে তিনি অত্যন্ত গর্বিত। তিনি জানান, ভারতীয় শিল্পীদের প্রতিনিধিত্ব করে এই সম্মান গ্রহণ করছেন, যারা বিশ্বাস করেন যে, গল্প এবং সিনেমা মানুষদের মধ্যে বন্ধুত্বের সেতু স্থাপন করতে পারে।
মনে রাখা দরকার, শাহরুখ খানের পর রানি মুখোপাধ্যায় হলেন দ্বিতীয় ভারতীয় চলচ্চিত্রের ব্যক্তিত্ব, যিনি লা ট্রোব বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সম্মানসূচক ডক্টরেট সম্মাননা লাভ করেছেন।
রানি ১৯৯৭ সালে ‘রাজা কি আয়েগি বারাত’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে কিশোরী বয়সে অভিনয়ে যাত্রা শুরু করেন। এরপর তিনি ‘কুছ কুছ হোতা হ্যায়’, ‘সাথিয়া’, ‘হাম তুম’, ‘ব্ল্যাক’, ‘নো ওয়ান কিল্ড জেসিকা’, ‘হিচকি’, ‘মর্দানি’ ফ্র্যাঞ্চাইজিসহ ‘মিসেস চ্যাটার্জি ভার্সেস নরওয়ে’ ছবিগুলোতে অসাধারণ অভিনয় দেখিয়ে দর্শক ও সমালোচকদের প্রশংসা অর্জন করেন। বাণিজ্যিক সিনেমার পাশাপাশি শক্তিশালী নারী চরিত্রে অভিনয়ের ক্ষেত্রেও তিনি নিজেকে একটি অনন্য পরিচয়ে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।