ভারতের প্রযুক্তি ও ডিজিটাল পরিকাঠামোয় এক ঐতিহাসিক অধ্যায়ের সূচনা হতে চলেছে। দেশে প্রথম আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (AI) চালিত ডেটা সেন্টার গড়ে তুলতে একজোটে কাজ করার ঘোষণা করল মুকেশ আম্বানির রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ (Reliance Industries) এবং জুকারবার্গের মেটা (Meta)। প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পার্টনারশিপ ভারতের এআই বিপ্লবকে এক নতুন গতি দেবে।চেন্নাইয়ে তৈরি হচ্ছে এই মেগা প্রজেক্টসূত্র মারফত জানা গেছে, রিলায়েন্সের চেন্নাইয়ের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে (SEIZ) অবস্থিত ডেটা সেন্টার ক্যাম্পাসে এই নতুন এআই ডেটা সেন্টারটি স্থাপন করা হতে পারে। এই সেন্টারে মেটার লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল (LLM) ‘Llama’ চালিত অ্যাপ্লিকেশনগুলি প্রসেস করা হবে। অত্যন্ত উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন এই ডেটা সেন্টারটি কয়েক হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগে তৈরি হচ্ছে বলে খবর।কেন এই যৌথ উদ্যোগ?ভারতের কড়া ডেটা সুরক্ষা নিয়মের কারণে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলির জন্য স্থানীয়ভাবে ডেটা সংরক্ষণ করা জরুরি হয়ে পড়েছে। এই ডেটা সেন্টার মেটাকে ভারতীয় ব্যবহারকারীদের তথ্য দেশেই সুরক্ষিত রাখতে সাহায্য করবে।মেটার অধীনে থাকা ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম এবং হোয়াটসঅ্যাপের মতো জনপ্রিয় অ্যাপগুলিতে এআই ফিচার যোগ হওয়ার পর ডেটা প্রসেসিংয়ের চাপ বহুগুণ বেড়েছে।রিলায়েন্সের পরিকাঠামো ব্যবহার করে মেটা এই বিশাল ট্রাফিক আরও দ্রুত ও নির্বিঘ্নে সামলাতে পারবে।রিলায়েন্স জিও-র দেশব্যাপী বিস্তৃত হাই-স্পিড ফাইবার নেটওয়ার্কের কারণে এই ডেটা সেন্টার থেকে মেটার ডেটা ট্রান্সফার হবে চোখের পলকে।শিল্প বিশেষজ্ঞদের মতে: “রিলায়েন্সের গ্রাউন্ড পরিকাঠামো এবং মেটার কাটিং-এজ এআই প্রযুক্তির এই মেলবন্ধন শুধু এই দুই সংস্থারই লাভ করবে না, বরং ভারতের সাধারণ মানুষের কাছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহারকে আরও সহজ ও সাশ্রয়ী করে তুলবে।”ভারতের অর্থনীতিতে প্রভাবএই মেগা ডেটা সেন্টারের ফলে ভারতে হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশেষ করে ক্লাউড কম্পিউটিং, ডেটা অ্যানালিটিক্স এবং এআই ইঞ্জিনিয়ারিং ক্ষেত্রে বিপুল চাকরির সুযোগ তৈরি হবে। একই সাথে, বৈশ্বিক প্রযুক্তি মানচিত্রে ভারতের অবস্থান আরও মজবুত হবে।এখন দেখার, রিলায়েন্স এবং মেটার এই জুড়ি ভারতের কোটি কোটি স্মার্টফোন ব্যবহারকারীর ডিজিটাল অভিজ্ঞতাকে কতটা বদলে দিতে পারে।