ভারতের বৃহত্তম আইটি পরিষেবা সংস্থা টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিসেস (TCS) চলতি অর্থবর্ষের প্রথম ত্রৈমাসিকে (Q1) পেশ করেছে।
এই ত্রৈমাসিকে কোম্পানির নিট মুনাফা প্রায় ৫% বেড়ে হয়েছে ১৩,৩৪৯ কোটি টাকা (যা গত বছরের একই সময়ে ছিল ১২,৭৬০ কোটি টাকা)।
মোট আয়: গত বছরের তুলনায় কোম্পানির রাজস্ব বা আয় ১৪% বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ৭২,২৭৫ কোটি টাকায়, যা বাজার বিশেষজ্ঞদের অনুমানকে ছাড়িয়ে গেছে।
অপারেটিং মার্জিন: কঠিন বাজারের মধ্যেও কোম্পানি ২৪% অপারেটিং মার্জিন বজায় রাখতে সফল হয়েছে।
অন্তর্বর্তী লভ্যাংশ (Dividend): শেয়ারহোল্ডারদের জন্য প্রতি শেয়ারে ১২ টাকা অন্তর্বর্তী লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে টিসিএস বোর্ড।
এআই (AI) এবং বড় ডিলের ভূমিকা
এই ত্রৈমাসিকে কোম্পানির সাফল্যের অন্যতম বড় কারণ হলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (AI) প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি। টিসিএস জানিয়েছে, তাদের বার্ষিক এআই রাজস্বের হার ২.৬ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে।
চলতি ত্রৈমাসিকে কোম্পানি মোট ৯.৫ বিলিয়ন ডলারের নতুন চুক্তির (TCV) বরাত পেয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
শিল্প উৎপাদনকারী সংস্থা ‘SKF’-এর সাথে একটি বড় মাপের ৮০০ মিলিয়ন ডলারের এআই-ভিত্তিক রূপান্তর চুক্তি।
শীর্ষস্থানীয় এআই সংস্থা Anthropic এবং Mistral-এর সাথে কৌশলগত অংশীদারিত্ব, যার মাধ্যমে ৫০,০০০ কর্মচারীকে ‘Claude’-এর মতো আধুনিক এআই টুল ব্যবহারের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।
কর্মী সংখ্যা ও কর্মসংস্থান
জুন ত্রৈমাসিকের শেষে টিসিএস-এর মোট কর্মী সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫,৯৩,৭৯৮। এই ত্রৈমাসিকে বিশ্বজুড়ে কর্মীদের বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি করা সত্ত্বেও, কোম্পানি তাদের কর্মী ছাঁটাই বা চাকরি ছাড়ার হার (Attrition Rate) ১৩.৬%-এ নিয়ন্ত্রণে রাখতে পেরেছে।
সিইও-র বক্তব্য:
“ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ থাকা সত্ত্বেও আমাদের ব্যবসার এই গতি বজায় রয়েছে। গ্রাহকেরা বর্তমানে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স, প্রযুক্তির আধুনিকীকরণ এবং সাইবার সিকিউরিটির ওপর সবচেয়ে বেশি জোর দিচ্ছেন।” — কে কৃতিবাসন, সিইও এবং ম্যানেজিং ডিরেক্টর