সবার কাছে পরিচিত একটি নাম—‘আর্ট বাইজু’। কলকাতার অনেকে বাস ও লড়ির পেছনে এই স্বাক্ষর দেখেছেন। কিন্তু এই নামের আড়ালে কে আছেন, জানেন কি?
এই নামটির পেছনে কিংবদন্তি জলুর রহমান আছেন, যিনি রং-তুলির সাহায্যে শহরের চলমান যানবাহনকে তুলে ধরেছেন এক বিশেষ শিল্পের ক্যানভাসে। শৈশবের স্বপ্ন ছিল ফুটবল খেলা, তবে স্থানীয় কোচ নাজির হুসেইনের প্রভাবে আঁকার প্রতি নতুন আকর্ষণ সৃষ্টি হয়। কিন্তু পারিবারিক জন্যে নিয়মিত আঁকায় শিক্ষা নেয়া সম্ভব হয়নি। সেই সব বাধা সত্ত্বেও, নিজের প্রচেষ্টায় তিনি রঙ ও ব্রাশের জগতে প্রবেশ করেছেন।
ফুটবল খেলতে গিয়ে গুরুতর চোটে পাওয়ার ফলে তাঁর খেলোয়াড় জীবনের সমাপ্তি ঘটেছিল, কিন্তু জীবন সংগ্রাম অব্যাহত রেখেছিলেন তাঁর। সংসারের কঠিন পরিস্থিতিতে কারখানায় কাজ করার পাশাপাশি তিনি আঁকার কাজও চালিয়ে গেছেন। পরে গুরু আমিন মণ্ডলের অধীনে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ নিয়ে তিনি ধীরে ধীরে গাড়ি রং করার জগতে নিজের স্থান তৈরি করেন।
একটি বাসে তাঁর শিল্পকর্মে নজর পড়ার পর থেকেই কলকাতার নানা রুটে তাঁর নাম সমাদৃত হয়ে ওঠে। আজ শহরের বিভিন্ন বাসে ‘আর্ট বাইজু’ নামে চিহ্নিত কাজ দেখা যায়, যার একটি বড় অংশই তাঁর ও তাঁর প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ছাত্রদের সৃষ্টি।
তিনি একজন শিল্পী এবং মানবিক গুণাবলীর অধিকারী। সীমিত আয়ের মধ্যেও তিনি সহকর্মীদের সমর্থনে থাকেন, অসহায়দের সাহায্য করতে পিছপা হন না এবং পথকুকুরদের জন্য আশ্রয় তৈরি করেছেন—এগুলি তাঁর জীবনের অপরিহার্য অংশ। ফুটবলের প্রতি তাঁর গভীর ভালোবাসা থেকেই, তিনি স্থানীয় যুবকদের প্রশিক্ষণ দিতে তৎপর আছেন।
ডিজিটাল যুগ আসার পর হাতে আঁকা শিল্পের চাহিদা কিছুটা কমলেও, তিনি তাঁর বিশ্বাসে অটল রয়েছেন—‘আর্ট বাইজু’। তাঁর মতে, নিষ্ঠা ও ভালোবাসা দিয়ে গড়া কাজই প্রকৃত শিল্প; এবং তিনি বিশ্বাস করেন যে যেভাবে কাজ করা হয়, সেভাবেই জীবন একদিন তার ফল ফেরত দেয়।