FIDE উইমেন্স ক্যান্ডিডেটস ২০২৬-এর চূড়ান্ত রাউন্ডে ক্যাটরিনা লাগনোকে পরাস্ত করে টুর্নামেন্ট জয় করেছেন ভারতের গ্র্যান্ডমাস্টার রমেশবাবু বৈশালী। এই বিজয়ের মাধ্যমে তিনি প্রথম ভারতীয় মহিলা হিসেবে এই প্রতিযোগিতায় জয়ী হলেন। এখন তিনি উইমেন্স ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপের জন্য জু ওয়েনজুনের বিরুদ্ধে লড়াই করবেন। বৈশালী ওই বিশ্বরেকর্ড গড়ার জন্য কত টাকা আর্থিক পুরস্কার পেয়েছেন তা জানা যায়নি।চ্যাম্পিয়ন হওয়ার ফলে তিনি ২৮ হাজার ইউরো, যা তাঁর কেরিয়ারের অন্যতম বৃহত্তম আর্থিক পুরস্কার, অর্জন করেছেন। ভারতীয় মুদ্রায়, এটি প্রায় ৩০ লাখ ৭৯ হাজার টাকার সমান। তবে তাঁর আয় এখানে শেষ হচ্ছে না। প্রতিটি রাউন্ডে তাঁদের পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে অংশগ্রহণকারীদের জন্য পুরস্কারের একটি কাঠামো রয়েছে, যার মাধ্যমে বাড়তি বোনাস প্রদান করা হয়।যে অংশগ্রহণকারী হাফ পয়েন্ট অর্জন করেন, তাঁকে ২২০০ ইউরো পুরস্কৃত করা হয়। যেহেতু বৈশালী টানা ১৪ রাউন্ডে ধারাবাহিকভাবে অসাধারণ ফল প্রদর্শন করেছেন, তাই তাঁর মোট পুরস্কার অর্থের পরিমাণ ২৮ হাজার ইউরোর থেকেও বেশি হবে। দ্বিতীয় ভারতীয় মহিলা হিসেবে বিশ্বচ্যাম্পিয়নশিপের লড়াইয়ে নামার গৌরব অর্জন করলেন বৈশালী। এর আগে ২০১১ সালে এই কৃতিত্ব অর্জন করেছিলেন কোনেরু হাম্পি। গত তিন বছরের মধ্যে এটাই বৈশালীর তৃতীয় বড় সাফল্য—তিনি দু’বার FIDE গ্র্যান্ড সুইস চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন এবং ২০২৪ সালে অনুষ্ঠিত হওয়া উইমেন্স অলিম্পিয়াড বিজয়ী দলের সদস্য হিসেবেও নাম লিখিয়েছেন।তবে এই জয় মোটেও সহজ ছিল না। টুর্নামেন্টের প্রথম পাঁচ রাউন্ড শেষে দিব্যা দেশমুখ ও তান ঝংয়ের সঙ্গে তিনি তালিকার একেবারে নিচে ছিলেন। কিন্তু এরপর অসাধারণ প্রত্যাবর্তন করে শীর্ষে চলে আসেন এবং শেষ পর্যন্ত খেতাবটি দখল করেন। অন্যদিকে, দিব্যা ও তান তালিকার নিচের দিকেই শেষ করেন।এর আগে ক্যান্ডিডেটসে এমন প্রত্যাবর্তন ঘটিয়েছিলেন বৈশালী। দুই বছর আগে টরন্টোতে তিনি টানা চারটি ম্যাচ হারিয়ে তলানিতে নেমে গিয়েছিলেন, তবে শেষ পাঁচটি ম্যাচ জিতে শিরোপার বেশ কাছে পৌঁছানোর অসাধারণ একটি অভিযান পরিচালনা করেছিলেন।উল্লেখযোগ্য যে, এই টুর্নামেন্টের আগে বৈশালীকে বিশেষভাবে ফেভারিট হিসেবে বিবেচনা করা হয়নি। পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন বিশ্বনাথন আনন্দ তাঁকে ‘ডার্ক হর্স’ হিসেবে অভিহিত করেছিলেন। যদিও অনেকেই তাঁর ভাই আর প্রজ্ঞানন্দাকে ফেভারিট মনে করেছিলেন, বৈশালী শেষ পর্যন্ত সপ্তম স্থানে অবস্থান করেন।