রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুল ইসলামের জন্মজয়ন্তীর মধ্যবর্তী সময়কে প্রতীকীভাবে “কবি পক্ষ” বলা হয়ে থাকে। এই উপলক্ষকে কেন্দ্র করে ইউরোপের বাঙালি সমাজে আবারও আয়োজন করা হতে যাচ্ছে ‘কবি প্রণাম’। বাংলা সাহিত্য, সংগীত, আবৃত্তি ও সংস্কৃতি নিয়ে এই বিশেষ অনুষ্ঠান এবার তৃতীয় বর্ষে প্রবেশ করছে।
২০২৪ সালে প্রথমবার এই আয়োজনের স্থান হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছিল আইনদোভেনকে। এরপর উইথুর্নকে, আর এবারের অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হতে চলেছে ২৩শে মে উত্রেখ্তে। এই আয়োজনের প্রধান সংগঠক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ড. লিপিকা ভট্টাচার্য এবং অনুষ্ঠানটি আয়োজন করছে DE CONFLUENCE, যা ভারতের অন্যতম প্রাচীন সাংস্কৃতিক পরীক্ষামূলক প্রতিষ্ঠান, সর্বভারতীয় সঙ্গীত ও সংস্কৃতি পরিষদের ইউরোপীয় শাখা এবং যা পরিচালিত হয় বেলজিয়াম থেকে।
এবারের অনুষ্ঠানে একশরও বেশি মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রত্যাশিত। নৃত্য, সংগীত, কবিতা আবৃত্তি ও শ্রুতি নাটকের মাধ্যমে ৫৫ জনেরও বেশি শিল্পী দুই কবির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন। এই দিনব্যাপী অনুষ্ঠানে বেলজিয়াম, লুক্সেমবার্গ ও নেদারল্যান্ডসের শিল্পীরা অংশগ্রহণ করবেন। অনুষ্ঠানটি সবার জন্য উন্মুক্ত, এবং এখানে কোনো বাধ্যতামূলক প্রবেশমূল্য নেই।
এ বছরের একটি বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে উপস্থিত থাকছেন মধুরিমা ভট্টাচার্য। তিনি পণ্ডিত অজয় চক্রবর্তীর শিষ্যা এবং শ্রুতি নন্দন কলকাতার প্রাক্তন শিক্ষিকা। এছাড়াও, বেনেলাক্স অঞ্চলের বহু জনপ্রিয় শিল্পী এই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করবেন। বাংলা খাবার ও মিষ্টির আয়োজনে থাকবেন মৌসুমী দাস, এবং শাড়ির পাশাপাশি বিভিন্ন সামগ্রী নিয়ে উপস্থিত থাকবেন সুজাথা কল্লুর।
ড. লিপিকা ভট্টাচার্যের সঙ্গে যারা সমান ভাবে এই অনুষ্ঠানের দায়িত্বে রয়েছেন তারা হলেন অনির্বাণ হাজরা এবং অর্চনা পাল।
পরিষদের সম্মানিত সম্পাদক ড. শান্তনু সেনগুপ্ত অনুষ্ঠানের জন্য তাঁর শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন। দিনব্যাপী এই আয়োজন সংগীত, কবিতা এবং সংস্কৃতির মাধ্যমে ইউরোপে বাঙালি ঐতিহ্য ও আত্মপরিচয়ের একটি বিশেষ মিলনমেলায় পরিণত হবে বলেই ধারণা করছেন আয়োজনকারীরা।