টানা ৯ দিন ধস: কেন রিলায়েন্সের শেয়ারে এই নজিরবিহীন পতন? জেনে নিন আসল কারণ

ভারতের সবচেয়ে মূল্যবান বাজার মূলধনী (m-cap) প্রতিষ্ঠান রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ (RIL)-এর শেয়ারদরে বড়সড় পতন দেখা গেছে। সোমবার, ৮ জুন, টানা নবম দিনের মতো কোম্পানিটির শেয়ারের দাম কমেছে। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে অপরিশোধিত তেলের (crude oil) ক্রমবর্ধমান দাম বৃদ্ধি এবং তার জেরে বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের (FIIs) অনবরত শেয়ার বিক্রির চাপ ও ভারতীয় শেয়ার বাজারের সার্বিক মন্দার মাঝেই এই পতন ঘটল।

আজকের ইন্ট্রাডে (intraday) লেনদেনে রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ারের দাম ২%-এর বেশি কমে তার ৫২ সপ্তাহের সর্বনিম্ন স্তর ১২৬০ টাকায় নেমে আসে। মুকেশ আম্বানির নেতৃত্বাধীন এই কোম্পানিটির শেয়ারের দাম টানা নয় দিনের পতনে প্রায় ৭% হ্রাস পেয়েছে। এর ফলে রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের বাজার মূলধন ১৮.৪৯ লাখ কোটি টাকা থেকে কমে ১৭.১০ লাখ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে, যা বিনিয়োগকারীদের প্রায় ১২৯,০০০ কোটি টাকার সম্পদ ধূলিসাৎ করে দিয়েছে।

চলতি বছরে এ পর্যন্ত RIL-এর শেয়ারের দাম প্রায় ১৯% কমেছে, যা ভারতের প্রধান শেয়ার সূচক এনএসই নিফটি (NSE NIFTY)-র তুলনায় বেশ হতাশাজনক পারফরম্যান্স।

বাজার বিশ্লেষকরা এই টানা পতনের পেছনে মূলত পাঁচটি প্রধান কারণকে চিহ্নিত করেছেন:

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির অবনতি ঘটায় বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০৮ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। তেলের এই আকস্মিক মূল্যবৃদ্ধির ফলে রিলায়েন্সের মূল ব্যবসা ও-টু-সি (Oil-to-Chemicals) বা তেল-থেকে-রাসায়নিক খাতের ওপর সরাসরি চাপ পড়েছে, যা তাদের পেট্রোকেমিক্যাল মার্জিন কমিয়ে দিয়েছে এবং উৎপাদন খরচ বাড়িয়ে দিয়েছে।

রিলায়েন্সের সাম্প্রতিক চতুর্থ প্রান্তিকের (Q4) আর্থিক ফলাফল বাজার বিশেষজ্ঞদের পূর্বাভাসের চেয়ে কম হয়েছে। বিশেষ করে রিফাইনিং (পরিশোধন) খাতের গ্রস রিফাইনিং মার্জিন (GRMs) দুর্বল হওয়ায় এই খাতের বার্ষিক আয় আগের বছরের তুলনায় ৩.৭% হ্রাস পেয়েছে।
প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের শেয়ার

বিশ্বব্যাপী ঝুঁকি এড়ানোর প্রবণতা এবং পশ্চিমা দেশগুলোর সুদের হার পরিবর্তনের পূর্বাভাসের কারণে বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা (FIIs) ভারতের বড় বড় কোম্পানির শেয়ার (Large-caps) ক্রমাগত বিক্রি করে দিচ্ছেন, যার বড় প্রভাব পড়েছে রিলায়েন্সের ওপর।

বাজার বিশ্লেষণের দিক থেকে, রিলায়েন্সের শেয়ারের দাম ১,৩১৫ টাকার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সাপোর্ট স্তরটি ভেঙে নিচে নেমে গেছে। এর ফলে অ্যালগরিদমিক ট্রেডিং সিস্টেমের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ব্যাপক শেয়ার বিক্রি শুরু হয় এবং উচ্চ ট্রেডিং ভলিউমের সাথে পতন আরও ত্বরান্বিত হয়।

আগামী ১৯ জুন, ২০২৬ তারিখে রিলায়েন্সের বহুল প্রতীক্ষিত বার্ষিক সাধারণ সভা (AGM) অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। কোম্পানিটির রিটেল এবং টেলিকম (Jio) ব্যবসার আইপিও (IPO) নিয়ে ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ সুনির্দিষ্ট কোনো ঘোষণা দেয় কিনা, তা দেখার জন্য বিনিয়োগকারীরা বর্তমানে নতুন বিনিয়োগ থেকে বিরত থাকছেন বা ঝুঁকি কমাতে শেয়ার বিক্রি করছেন।
বাজার পর্যবেক্ষকদের মতে, বর্তমান প্রযুক্তিগত সূচকগুলো (Technical Indicators) অনুযায়ী শেয়ারটির অতিরিক্ত বিক্রি (Oversold) হয়ে গেলেও, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে এবং রিলায়েন্সের শেয়ার ঘুরে দাঁড়াতে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা প্রশমন এবং আসন্ন এজিএম (AGM) থেকে ইতিবাচক নির্দেশনার ওপর নির্ভর করতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *