ফুটবলের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বিশ্বকাপ আসর অনুষ্ঠিত হতে চলেছে ২০২৬ সালে। এই বিশাল টুর্নামেন্টের জন্য যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং মেক্সিকো যৌথভাবে আয়োজন করছে। এটি প্রথমবারের মতো ৪৮টি দলের অংশগ্রহণ প্রত্যক্ষ করবে। প্রতিযোগিতাটিতে মোট ১০৪টি ম্যাচ ঘটবে, যা ৩৯ দিনের মধ্যে অনুষ্ঠিত হবে এবং এটি বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে বড় আয়োজন হিসেবে পরিচিত হবে।
১৯৯৮ সালে সর্বশেষ বিশ্বকাপে দলসংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে ৩২ ছিল। এরপর টানা সাতটি আসরে ৩২টি দল নিয়েই খেলা হয়েছে এবং ম্যাচের সংখ্যা ছিল ৬৪। এবার নতুন ফরম্যাটে চারটি অতিরিক্ত গ্রুপ যুক্ত করা হয়েছে এবং নকআউট পর্বে একটি নতুন রাউন্ড, অর্থাত্ ৩২-রাউন্ড সংযোজন করা হয়েছে।
মোট ১৬টি স্টেডিয়ামে খেলা হবে, যার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে রয়েছে ১১টি, মেক্সিকোতে ৩টি এবং কানাডায় ২টি ভেন্যু। মেক্সিকোতে অনুষ্ঠিত হবে ১৩টি ম্যাচ, আর উদ্বোধনী ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে ১১ জুন মেক্সিকো সিটিতে, যেখানে স্বাগতিক মেক্সিকোর মোকাবেলা হবে দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে। একইভাবে, কানাডাও আয়োজন করবে ১৩টি ম্যাচ, এবং ১২ জুন টরন্টোতে স্বাগতিক কানাডা মুখোমুখি হবে বসনিয়া-হার্জেগোভিনার। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত হবে বাকি ৭৮টি ম্যাচ, যেখানে কোয়ার্টার ফাইনাল, সেমিফাইনাল এবং ফাইনালসহ টুর্নামেন্টের অতি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলো নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে হবে।
বিশ্বকাপের এই আসরে যুক্ত হচ্ছেন রেকর্ড ১,২৪৮ জন ফুটবলার। তারা এসেছে ৭১টি দেশের মোট ৪৪৯টি ক্লাব থেকে। এদের মধ্যে ৩৫৭ জনের বিশ্বকাপ খেলার অভিজ্ঞতা আছে, যেখানে ৮৯১ জন খেলোয়াড় প্রথমবারের মতো অংশগ্রহণ করবেন।
ক্লাবের ভিত্তিতে প্রতিনিধিত্বের দিক দিয়ে প্রথম অবস্থানে রয়েছে ইংল্যান্ড। এখানকার ক্লাবগুলোর হয়ে অংশ নেওয়া খেলোয়াড়ের সংখ্যা ২০০। ক্লাবের দিক থেকে সবচেয়ে বেশি, অর্থাৎ ১৯ জন ফুটবলার বিশ্বকাপে অংশ নিচ্ছে ম্যানচেস্টার সিটি থেকে, আর দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে বায়ার্ন মিউনিখ, যার দলে আছেন ১৮ জন খেলোয়াড়।
ব্যক্তিগত সাফল্যের পরিপ্রেক্ষিতে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো পর্তুগালের অনন্য তারকা হিসেবে সকলের নজরে থাকবেন। তিনি ২২৬ আন্তর্জাতিক ম্যাচে অংশ নিয়েছেন এবং ছয়বার বিশ্বকাপে খেলবেন। একইভাবে, আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসিও এই কীর্তি অর্জনে এগিয়ে আছেন। রোনালদো হলেন একমাত্র ফুটবলার, যিনি পাঁচটি ভিন্ন বিশ্বকাপে গোল করার অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন।
এবার বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতা জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসের ১৬ গোলের রেকর্ড চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হতে পারে। মেসির গোল সংখ্যা ১৩, আর ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পের সংগ্রহে রয়েছে ১২ গোল।
এমনিতেই এ পর্যন্ত মাত্র আটটি দেশ বিশ্বকাপ জয়ের সম্মান অর্জন করেছে। সবচেয়ে সফল দল হিসেবে ব্রাজিল স্থান পেয়েছে, যেখানে শিরোপার সংখ্যা পাঁচটি। এছাড়া, বিশ্বকাপের ২৩টি আসরে অংশগ্রহণকারী একমাত্র দেশও হচ্ছে ব্রাজিল। তাদের দখলে রয়েছে সর্বাধিক ৭৬টি জয় এবং ২৩৭ গোলের রেকর্ড।
এবার মোট চারটি দেশ নতুনভাবে বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পাচ্ছে— ওইগুলো হলো কেপ ভার্ডে, কুরাসাও, জর্ডান ও উজবেকিস্তান। এর ফলে, বিশ্বকাপের ইতিহাসে মোট অংশগ্রহণকারী দেশের সংখ্যা ৮৪ তে পৌঁছাবে।
এখন পর্যন্ত অনুষ্ঠিত ২২টি বিশ্বকাপে মোট ৯৬৪টি ম্যাচে ২,৭২০টি গোল হয়েছে। এবারের বিশ্বকাপে অতিরিক্ত ৪০টি ম্যাচ অন্তর্ভুক্ত হওয়ার কারণে ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে গড়া ১৭২ গোলের টুর্নামেন্ট রেকর্ড ভাঙার সম্ভাবনা খুবই উজ্জ্বল।
যুক্ত হওয়া নতুন ম্যাচ এবং দলের সংখ্যা নিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপ কেবলমাত্র পরিসংখ্যানের দিক থেকে নয়, তারকা ফুটবলারদের উপস্থিতি ও বৈশ্বিক অংশগ্রহণের দিক দিয়েও ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বৃহৎ আয়োজন হতে যাচ্ছে।