গত ২৩শে জুলাই কলকাতার জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়ির রথীন্দ্র মঞ্চে শুভদীপ চক্রবর্তী মহাশয়ের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত হয় এক সাংস্কৃতিক মহোৎসব, যার নাম ছিল ‘মেঘ’। পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত শিল্পীদের নিয়ে সাজানো এই সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অন্তত ২০টি নৃত্যদল তাদের কৃতিত্বপূর্ণ পরিবেশনার মাধ্যমে দর্শকদের হৃদয় জয় করে নেয়।
এই অনুষ্ঠানে সুর লহরী নৃত্যায়ন-এর পক্ষ থেকে মোট ২১ জন শিল্পী অংশ নেন। অনুষ্ঠানের প্রথম পর্বে সর্বভারতীয় সঙ্গীত ও সংস্কৃতি পরিষদের অনুমোদিত নৃত্যগুরু ও পরীক্ষক রত্নমণি ঝুমুর ঘোষের পরিচালনায় রবীন্দ্রভাবনায় নির্মিত নৃত্যপ্রযোজনা ‘মেঘমদিরিত’ উপস্থাপিত হয়। রবীন্দ্রসাহিত্যের আবহ এবং নৃত্যের চিত্রনায়ক উপস্থাপনাটি দর্শকদের প্রশংসা অর্জন করে।
পরবর্তী পর্বে ডেইজি ঘোষ কর্তৃক পরিচালিত নজরুলগীতির প্রেক্ষাপটে নির্মিত নৃত্যপ্রযোজনা ‘রিমঝিম’ মঞ্চস্থ হয়। শিল্পীদের সঙ্গীত, নৃত্য, ছন্দ এবং অভিব্যক্তির নিখুঁত সমন্বয় অনুষ্ঠানে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছিল এবং উপস্থিত দর্শকদের মাঝেও বিপুল প্রশংসা কুড়িয়ে নিয়েছিল।
অনুষ্ঠানে অন্যতম বিশিষ্ট অতিথিরা ছিলেন ড. শুভাশীষ ভট্টাচার্য, শ্রীমতি সুশ্মিতা ভট্টাচার্য, ড. পুষ্পিতা ভট্টাচার্য এবং শ্রী সোমনাথ কুট্টি। তাঁদের উপস্থিতি অনুষ্ঠানের গুরুত্বকে আরও উজ্জ্বল করে তুলেছিল।
অনুষ্ঠানের সমাপনী পর্বে আয়োজক ও পরিচালক সুবাদীপ চক্রবর্তী রত্নমণি ঝুমুর ঘোষ এবং ডেইজি ঘোষকে উত্তরীয়, স্মারক ও মানপত্র প্রদান করে তাঁদের সাংস্কৃতিক অবদানের জন্য সম্মানিত করেন। একইসঙ্গে, অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী শিল্পীদের আন্তরিক প্রচেষ্টা ও নিষ্ঠাকেও যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা হয়।
সুপরিকল্পিত এই আয়োজন, বৈচিত্র্যময় নৃত্য পরিবেশন এবং রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা শিল্পীদের মিলন ঘটিয়ে ‘মেঘ’ নৃত্যোৎসবটি এক অসাধারণ সাংস্কৃতিক সম্মিলনে পরিণত হয়। নৃত্য, সঙ্গীত এবং সৃজনশীলতার মেলবন্ধনে তৈরি হওয়া এই অনুষ্ঠানটি উপস্থিত দর্শকদের মনে দীর্ঘকাল ধরে স্মরণীয় হয়ে থাকবে, এমন আশাবাদ ব্যক্ত করেন সাংস্কৃতিক মহলের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।