এমএস সুব্বুলক্ষ্মীর ভূমিকায় রশ্মিকা, শুরু নতুন বায়োপিকের পথচলা

কিংবদন্তি কর্ণাটক সঙ্গীতশিল্পী এবং ভারতরত্ন প্রাপ্ত এমএস সুব্বুলক্ষ্মীর জীবন এবার বড় পর্দায় উপস্থাপন হতে যাচ্ছে। তাঁর ১১০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে চেন্নাইয়ের দ্য মিউজিক অ্যাকাডেমিতে একটি বিশেষ অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন ছবির ঘোষণা করা হয়েছে, যার নাম ‘M.S – A Legacy On Screen’। এই ছবিতে সুব্বুলক্ষ্মীর চরিত্রে অভিনয় করবেন রশ্মিকা মন্দানা।

ছবিটি পরিচালনা করছেন গৌতম তিন্নানুরি, আর এর সঙ্গীত পরিচালনার দায়িত্বে আছেন অনিরুদ্ধ রবিচন্দর। গীতা আর্টসের প্রযোজনায় অল্লু অরবিন্দ, রকলাইন ভেঙ্কটেশ এবং বান্নি ভাস এই ছবিটি যৌথভাবে তৈরি করছেন। প্যান-ইন্ডিয়া স্কেলে নির্মিত এই চলচ্চিত্রের অন্যান্য বিস্তারিত তথ্য এখনও প্রকাশ করা হয়নি।

বিশেষ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কামাল হাসান। ছবিতে রশ্মিকার অভিনয়ের বিষয়ে তিনি অভিনেত্রীকে পরামর্শ দেন যে আত্মবিশ্বাসের সাথে চরিত্রটি গ্রহণ করা উচিত। তাঁর মতে, সুব্বুলক্ষ্মীর চোখে যে মমতা ও সহানুভূতি রয়েছে, অভিনয়ে সেই অনুভূতি তুলে ধরতে পারলেই চরিত্রটির গুরুত্বপূর্ণ দিকটি দক্ষতার সাথে ফুটিয়ে তোলা সম্ভব হবে।

অন্যদিকে, রশ্মিকাও এই চরিত্রটি ভিন্নভাবে উপস্থাপনের সুযোগ পেয়ে আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়েন। তিনি বলেন, সুব্বুলক্ষ্মীর স্বরসাধনা এমন এক বিশেষ আধ্যাত্মিক শক্তির পরিচায়ক, যা শ্রবণ করলে মনে হয় যেন ঈশ্বরের উপস্থিতির কাছে রয়েছি। কিংবদন্তীর জীবনের একটি ক্ষুদ্র অংশের প্রতিনিধিত্ব করার এই সুযোগকে তিনি এক ধরনের আশীর্বাদ এবং বিশাল দায়িত্ব হিসেবে গ্রহণ করছেন। এই চরিত্রে নিজেকে পুরোপুরি উজাড় করার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন অভিনেত্রী।

ছবির প্রযোজক অল্লু অরবিন্দ রশ্মিকার নির্বাচন নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন। তিনি মনে করেন, সুব্বুলক্ষ্মী যেন নিজেই তাদের এই ছবির জন্য রশ্মিকাকে নির্বাচিত করেছেন।

যদিও রশ্মিকার সুব্বুলক্ষ্মীর চরিত্রে কাস্ট করা হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক মাধ্যমে বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া এসেছে। এর আগে এই কিংবদন্তি শিল্পীর জীবন নিয়ে নির্মাণ করার পরিকল্পনার কথা প্রচারিত হয়েছিল। ২০১৩ সালে পরিচালক রাজীব মেননের একটি প্রকল্পে বিদ্যা বালনের অভিনয়ের কথা ছিল, কিন্তু সেই ছবিটি শেষ পর্যন্ত নির্মিত হয়নি। এছাড়া, সাই পল্লবীও সুব্বুলক্ষ্মীর চরিত্রের জন্য আলোচনায় এসেছিলেন।

এমএস সুব্বুলক্ষ্মী ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের ইতিহাসে অনবদ্য একটি অধ্যায় সৃষ্টি করেছেন। তিনি ১৯১৬ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর মাদুরাইয়ে জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৯৯৮ সালে ভারতরত্ন, দেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান, গ্রহণ করেন। ১৯৬৬ সালে রাষ্ট্রপুঞ্জের সাধারণ পরিষদে সঙ্গীত পরিবেশন করে তিনি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে একটি বিশেষ ইতিহাস সৃষ্টি করেন। চেন্নাইয়ে ২০০৪ সালের ১১ ডিসেম্বর তাঁর মৃত্যু ঘটে।

এখন দর্শকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে কিভাবে এই ঐতিহাসিক শিল্পীর জীবন ও সঙ্গীতের উত্তরাধিকারকে পর্দায় অঙ্কিত করা হবে। রশ্মিকার জন্য এটি একটি বড় অভিনয় চ্যালেঞ্জ, আর নির্মাতাদের জন্যও সুব্বুলক্ষ্মীর মতো কিংবদন্তির জীবনকে সঠিকভাবে উপস্থাপন করা একটি গুরুতর দায়িত্ব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *