ওড়িশা উপকূলে বিশাল প্রাকৃতিক গ্যাসের ভান্ডার পেল ONGC, ভারতের ‘সমুদ্র মন্থন’ অভিযানে বড় সাফল্য

ভারতের শক্তি ও জ্বালানি খাতের ইতিহাসে নতুন এক মাইলফলক স্পর্শ করল রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা ऑयल অ্যান্ড ন্যাচারাল গ্যাস কর্পোরেশন (ONGC)। জাতীয় গভীর সমুদ্র অনুসন্ধান মিশন ‘সমুদ্র মন্থন’ (Samudra Manthan)-এর অধীনে ওড়িশা উপকূলে গভীর সমুদ্রে এক বিশাল প্রাকৃতিক গ্যাসের ভান্ডারের সন্ধান পেয়েছে তারা। এই আবিষ্কার দেশের অভ্যন্তরীণ জ্বালানি উৎপাদন বৃদ্ধিতে এবং বিদেশ থেকে গ্যাস আমদানির নির্ভরতা কমাতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

সমুদ্রের বুকে খনন অভিযান ও সাফল্য
ONGC সূত্রের খবর, ওড়িশার কোণার্ক উপকূল থেকে প্রায় ৪৩ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ‘মহানদী অফশোর বেসিন’-এর MN-DW18-1-H-D নামক একটি বিশেষ কূপে এই প্রাকৃতিক গ্যাসের ভান্ডার আবিষ্কৃত হয়েছে।
কূপটি মোট ১,৬২৩ মিটার গভীরতায় খনন করা হয়েছে। এর মধ্যে সমুদ্রপৃষ্ঠের ১,৪৪১ থেকে ১,৪৫২ মিটার গভীরতার ব্যবধানে গ্যাসের অস্তিত্ব নিশ্চিত করা গেছে। প্রাথমিক পরীক্ষায় দেখা গেছে, সেখানে থাকা গ্যাসের প্রবাহ ও প্রেশার অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে গ্যাস পরীক্ষা এবং প্রবাহ পর্যবেক্ষণ শুরু হয়েছে।

‘সমুদ্র মন্থন’ মিশনের প্রথম বড় জয়
চলতি বছরের ২৫ জুলাই ভারতের কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী মহানদী বেসিনে ONGC-র এই ডিপওয়াটার ড্রিলিং বা কূপ খনন কাজের সূচনা (Spudding) করিয়েছিলেন। ‘সমুদ্র মন্থন’ উদ্যোগের আওতায় মহানদী বেসিনে এটিই ছিল ONGC-র প্রথম ড্রিলিং অভিযান, আর প্রথম প্রয়াসেই এসেছে এই অভাবনীয় সাফল্য।

নতুন এই কূপটি উপকূল থেকে মাত্র ৪৩ কিমি দূরে এবং পূর্বে আবিষ্কৃত উৎকল ও কোণার্ক ক্ষেত্রের কাছেই অবস্থিত। ফলে যৌথ পরিকাঠামো (Shared Infrastructure) ব্যবহার করে খুব দ্রুত এই গ্যাস উত্তোলন ও বাণিজ্যিক রূপ দেওয়া সম্ভব হবে।

ভারত বর্তমানে তার প্রয়োজনীয় প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় ৫০% এবং অপরিশোধিত খনিজ তেলের প্রায় ৯০% বিদেশ থেকে আমদানি করে। দেশীয় প্রযুক্তিতে এই ধরনের বড় আবিষ্কার ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা (Energy Security) অনেক শক্তিশালী করবে।

ভারত সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের মোট শক্তি ব্যবহারের অন্তত ১৫% অংশ প্রাকৃতিক গ্যাস থেকে মেটানোর লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে। ওড়িশা উপকূলের এই নতুন সন্ধান সেই লক্ষ্য অর্জনে বড় অনুঘটক হিসেবে কাজ করবে।

ONGC-র এই ঐতিহাসিক আবিষ্কারের ফলে ভারতের পূর্ব উপকূল ধীরে ধীরে দেশটির অন্যতম প্রধান জ্বালানি হাব হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে চলেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *