কলকাতার দুর্গাপুজো এ বছর কিছু নতুন নির্দেশনার কারণে আগের বছরের তুলনায় কিছুটা ভিন্ন হতে যাচ্ছে। প্রতিমার উচ্চতা, প্যান্ডেল উদ্বোধন, মদ বিক্রি, শব্দ ব্যবস্থাপনা এবং বিসর্জন—এই সব ক্ষেত্রেই নতুন নিয়মের প্রভাব পড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।
কুমোরটুলিতে এবার প্রতিমা তৈরিতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে উচ্চতার দিকে। সরকারি নির্দেশ অনুযায়ী, দুর্গাপ্রতিমার উচ্চতা ১১ ফুটের মধ্যে রাখতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শিল্পীদের একাংশ মনে করছেন, এতে এ বছর সাবেকি ধাঁচের প্রতিমার দিকে আসার প্রবণতা বাড়ছে। তারা জানিয়েছেন, থিমনির্ভর প্রতিমার সংখ্যা আগের তুলনায় কমে গেছে। কলকাতা পুলিশের মতে, শহরের উপর দিয়ে যাওয়া বৈদ্যুতিক তারের কারণে বিসর্জনের সময় এই উচ্চতার বিধিনিষেধ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
পুজোর উদ্বোধনের ক্ষেত্রে পরিবর্তন আসছে। মহালয়ার আগে কোনো প্যান্ডেল উদ্বোধনের অনুমতি নেই। এবছর মহালয়া ১০ অক্টোবর, তাই মহালয়ার আগে প্যান্ডেল ঘুরে দেখার যে অভ্যাস কলকাতাবাসীদের মধ্যে গড়ে উঠেছিল, সেটিতে এবার বাধা আসতে পারে।
অন্যদিকে, পুজো-পরবর্তী রেড রোড কার্নিভালের পরিবর্তে মহালয়াকে কেন্দ্র করে ইডেন গার্ডেন্সে একটি বড় সাংস্কৃতিক কর্মসূচির আয়োজন করা হচ্ছে। সেখানে লোকশিল্পী, ঢাকি এবং অন্যান্য শিল্পীদের পরিবেশনা, ড্রোন শো এবং আতশবাজির আয়োজন করা হতে পারে। রাজ্যের বিভিন্ন পুজোর উদ্বোধনও ভার্চুয়ালে করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।
মহাষ্টমীর দিনেও বিশেষ বিধিনিষেধ থাকবে। ১৯ অক্টোবর, অষ্টমীর দিনে রাজ্যজুড়ে মদ বিক্রি বন্ধ থাকবে। তাই বার, রেস্তোঁরা এবং মদের দোকানগুলিকে ওই দিন এই নিয়ম মেনে চলতে হবে।
পুজো এবং বিসর্জনের সময়ে ডিজে ব্যবহারের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গৃহীত হয়েছে। শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি ধর্মীয় পরিবেশ এবং ঐতিহ্য বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হচ্ছে। থিম পুজো নিষিদ্ধ করা হয়নি, তবে আয়োজকদের দৃষ্টি রাখতে বলা হয়েছে যেন থিম, প্রতিমা অথবা মণ্ডপের উপস্থাপনায় ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত না লাগে এবং সনাতন ঐতিহ্য ক্ষুণ্ণ না হয়।
সরকারি নির্দেশিকার সাথে সাথে কিছু পুজো কমিটি নিজেদের উদ্যোগে নতুন নিয়মও তৈরি করছে। উদাহরণ হিসেবে, ভবানীপুরের চকবেড়িয়া সর্বজনীন দুর্গোৎসব কমিটি প্যান্ডেলে প্রবেশের আগে ব্রেথালাইজার ব্যবহার করার পরিকল্পনা করেছে। এর মাধ্যমে তারা মদ্যপ অবস্থায় থাকা দর্শকদের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করবে। তবে উল্লেখ্য, এই নিয়মটি সরকারি নির্দেশনা নয়, বরং সংশ্লিষ্ট পুজো কমিটির নিজের সিদ্ধান্ত।
মোটের ওপর, ২০২৬ সালের কলকাতার দুর্গাপুজোয় ঐতিহ্য, প্রশাসনিক বিধিনিষেধ এবং নতুন আয়োজনের সমন্বয়ে উৎসবের পরিবেশ কিছুটা পরিবর্তিত হবে।