ঐক্যনাদের সুরমূর্ছনায় মুগ্ধ ত্রয়োদশ বর্ষের বৈঠকী আসর

বাগুইআটির ভিআইপি গার্ডেন হাউসিং কমপ্লেক্সে অনুষ্ঠিত উচ্চাঙ্গ সংগীতের বৈঠকি অনুষ্ঠান ‘ঐক্যনাদ’ এ বছর ত্রয়োদশ বর্ষে পদার্পণ করেছে। এই অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট সংগীতজ্ঞ, গুণীজন এবং উদীয়মান শিল্পীদের উপস্থিতি সুর, তাল ও লয়ের একটি বিশেষ মিলন সাক্ষী করেছে।

‘ঐক্য’ মানে হল সার্বিক সমবেত হওয়া, আর ‘নাদ’ বোঝায় ব্রহ্মস্বরূপ ধ্বনি— অর্থাৎ সংগীত ও সঙ্গীতের চিরন্তন উৎস। এই ভাবনা নিয়ে ঐক্যনাদের যাত্রা শুরু হয়েছে। বছরের পর বছর ধরে, এই উদ্যোগটি উচ্চাঙ্গ সংগীতের চর্চা, প্রসার এবং শিল্পীদের মধ্যে আন্তঃসম্পর্কের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করছে।

এবছরের অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে আয়োজনের গৌরব বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন খ্যাতনামা সংগীতশিল্পীরা, যেমন পণ্ডিত বিমল রায়, পণ্ডিত শান্তনু ভট্টাচার্য, শ্রী দিলীপ মিশ্র এবং পণ্ডিত নীলাদ্রি সেন। অনুষ্ঠানের বিশেষ আকর্ষণ ছিল সম্বিত দে’র কণ্ঠশিল্পী। অর্ক ঘোষের তবলার রিদম ও সুরজ শর্মার হারমোনিয়ামের নিখুঁত সঙ্গতি তাঁর পরিবেশনাকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলে। অন্যদিকে, ময়ূখ মুখার্জির একক তবলা পরিবেশন শ্রোতাদের মধ্যে বিশেষ প্রশংসা অর্জন করে, যেখানে তাঁর মা মন্দিরা মুখার্জির হারমোনিয়ামের সঙ্গতি একটি প্রাণবন্ত আবহ সৃষ্টি করে।

সেতারের প্রশান্ত মূর্ছনার সঙ্গে সুজয় বসু এবং বাঁশির সুরে ইন্দ্রজিৎ বসু শ্রোতাদেরকে এক অসাধারণ সংগীতের জগতে নিয়ে যান। রৌদ্রাশ্ব রক্ষিতের তবলা বাজানোর অনবদ্য সঙ্গতি এই পরিবেশনায় জীবন তুলে ধরে। শ্রদ্ধেয় ইন্দ্রজিৎ বসুর প্রতিষ্ঠিত কর্মযোগের ছায়ায় এই সৃজনশীল সংগীত পরিবেশনায় উপস্থিত দর্শক ও শ্রোতাদের মধ্যে এক বিশেষ অভিজ্ঞতা সৃষ্টি করে।ষভাবে আকৃষ্ট করে।

অনুষ্ঠানের সমাপ্তিতে অংশগ্রহণ করেন শ্রীমতী দূরবা ভট্টাচার্য। তবলায় ছিলেন সুধীর ঘড়াই, বেহালায় অম্লান হালদার এবং হারমোনিয়ামে মিত্রা ভট্টাচার্যের সঙ্গতে তাঁর পরিবেশনা অনুষ্ঠানটিকে এক নতুন সুরেলা মাত্রায় নিয়ে যায়।

এছাড়াও, শ্রদ্ধেয় পণ্ডিত শান্তনু ভট্টাচার্যের মাতৃবন্দনা ছিল অনুষ্ঠানের একটি বিশেষ আকর্ষণ। তাঁর নিবেদন পুরো পরিবেশে ভক্তি, পবিত্রতা এবং গভীর আধ্যাত্মিকতার অনুভূতি তৈরি করে।

মোটের ওপর, ঐক্যনাদের ত্রয়োদশ বর্ষের এই বৈঠকী আসর উচ্চাঙ্গ সংগীতের ঐতিহ্য ও সৌন্দর্যকে নতুনভাবে উদযাপন করেছে। শিল্পীদের আন্তরিক পরিবেশনা, গুণীজনদের উপস্থিতি এবং শ্রোতাদের উচ্ছ্বাস অনুষ্ঠানটিকে স্মরণীয় করে তুলেছিল। সংগীতের সেই মায়াবী আবহ এবং সুরের রেশ নিয়ে শ্রোতা ও অনুরাগীরা এখন থেকেই অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন পরের আসরের জন্য।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *