বেদীভবন রবিতীর্থ বিদ্যালয়ের সুবর্ণ জয়ন্তী উৎসব ও বোধন অনুষ্ঠান: এক অবিস্মরণীয় অভিজ্ঞতা

মহালয়ার এক শুভ লগ্নে বেদীভবন রবিতীর্থ বিদ্যালয়ের সুবর্ণ জয়ন্তীর সূচনা এবং শারদীয় ‘বোধন’ উৎসব অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ ও ভক্তিঘন পরিবেশে উদযাপিত হলো। বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক-শিক্ষিকা, প্রাক্তন শিক্ষার্থীবৃন্দ এবং শান্তিনিকেতনের আমন্ত্রিত শিল্পীদের যৌথ অংশগ্রহণে সমগ্র স্কুল প্রাঙ্গণ যেন এক টুকরো শান্তিনিকেতনে পরিণত হয়েছিল।
ভোরের আলো ফোটার আগেই, ঠিক ভোর ৫:৩০ মিনিটে বৈতালিকের সুরের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের প্রথম পর্ব শুরু হয়। এরপর ভোর ৫:৫০ মিনিটে রবীন্দ্র বেদীতলে প্রদীপ প্রজ্জ্বলন করা হয়, যা উপস্থিত সবার মনে এক আধ্যাত্মিক চেতনার উন্মেষ ঘটায়। প্রভাতী সানাইয়ের সুরে মুখরিত হয়ে ওঠে চারিদিক। সকাল ৬:০০টায় সানাইয়ের মায়াবী ধুন এবং সকাল ৭:০০টায় ভক্তিপূর্ণ উপাসনা অনুষ্ঠানের গাম্ভীর্য আরও বাড়িয়ে তোলে। সকাল ৮:০০টায় ‘ব্রতী শারদ প্রকাশ’ উদ্বোধনের পর প্রধান অতিথিদের প্রতি সম্মাননা জ্ঞাপন ও সম্ভাষণ জানানো হয়।

১০ মিনিটের একটি সংক্ষিপ্ত বিরতির পর শুরু হয় অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্ব। সকাল ৮:৩০ মিনিটে ‘আবাহন’ এবং ৯:৩০ মিনিটে ‘সুরসঙ্গম’ পরিবেশনার মাধ্যমে উপস্থিত শ্রোতারা সুরের মায়াজালে আবদ্ধ হন। অনুষ্ঠানের অন্যতম মূল আকর্ষণ ছিল সকাল ১০:১০ মিনিটের প্রাক্তনীদের বিশেষ নিবেদন— “শরতে জাগো শারদে” । বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের এই চমৎকার পরিবেশনা সকলের মনে এক অভূতপূর্ব শিহরণ ও নস্টালজিয়া জাগিয়ে তোলে। ধন্যবাদ জ্ঞাপনের মাধ্যমে এই সুসংগঠিত উৎসবের সমাপ্তি ঘটে।

রভিতীর্থের বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থী এবং শিক্ষকদের সাথে শান্তিনিকেতনের গুণী শিল্পীদের মেলবন্ধন এই অনুষ্ঠানকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিল। এমন একটি অসাধারণ ও রুচিশীল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের সাক্ষী হতে পেরে আমরা সত্যি আপ্লুত ও মুগ্ধ। বিদ্যালয়ের এই সুবর্ণ জয়ন্তীর সূচনা আগামী দিনগুলোতে আরও অনেক সুন্দর মুহূর্তের বার্তা বয়ে আনবে, এই প্রত্যাশাই রইল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *