বিশ্বের সেরা ১০০ জাদুঘরের তালিকায় নবম বিহার মিউজিয়াম

বিশ্বের সেরা ১০০টি জাদুঘরের তালিকায় নবম স্থান অধিকার করেছে বিহারের পটনা মিউজিয়াম, যা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি অর্জন করেছে। ২০২৬ সালের এই তালিকায় এশিয়ার মধ্যে ভারতের এই জাদুঘর শীর্ষ স্থানে অবস্থান করছে। উল্লেখযোগ্য হলো, বিহার মিউজিয়াম নিউ ইয়র্কের বিখ্যাত মেট্রোপলিটন মিউজিয়াম অফ আর্ট এবং প্যারিসের লুভর মিউজিয়ামকে পিছনে ফেলেছে।

জার্মানির মিউনিখভিত্তিক ভ্রমণ বিষয়ক সংস্থা ‘ওয়ার্থ আ জার্নি’ (Worth a Journey) প্রকাশিত এই তালিকায় পটনার জাদুঘর নবম স্থানে রয়েছে। একই সাথে, মেট্রোপলিটন মিউজিয়াম অফ আর্ট দশম স্থান অধিকার করেছে এবং লুভর মিউজিয়াম ৩১তম স্থানে রয়েছে।

তালিকার শীর্ষে রয়েছে মেক্সিকো সিটির মিউজেও নাসিওনাল দে আন্ত্রোপোলজিয়া, দ্বিতীয় স্থানে স্পেনের মাদ্রিদের মিউজিয়ো দেল প্রাদো এবং তৃতীয় স্থানে ডেনমার্কের লুইজিয়ানা মিউজিয়াম অফ মডার্ন। আর্ট। প্রথম পাঁচে জায়গা করে নিয়েছে রাশিয়ার স্টেট হার্মিটেজ মিউজিয়াম এবং ভিয়েনার কুনস্টহিস্টোরিশেস মিউজিয়ামও।

গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় হলো, ২০২৬ সালের এই তালিকায় স্থান পাওয়া একমাত্র ভারতীয় প্রতিষ্ঠান হলো বিহার মিউজিয়াম। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের মিউজিয়ামগুলোর তথ্যের অ্যালগরিদম ভিত্তিক বিশ্লেষণ এবং সরেজমিন পরিদর্শনের মাধ্যমে সংগৃহীত তথ্য যাচাই করে এই তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে।

১৩ একরেরও বেশি জায়গা জুড়ে বিস্তৃত বিহার মিউজিয়ামের স্থাপত্য আন্তর্জাতিক স্তরে বিশেষ প্রশংসিত হয়েছে। জাপানের খ্যাতনামা স্থপতি এবং প্রিটজকার পুরস্কার বিজয়ী ফুমিহিকো মাকি মুম্বইয়ের ওপোলিস আর্কিটেক্টসের সঙ্গে মিলে এই মিউজিয়ামের নকশা তৈরি করেছেন। ২০১৫ সালে এর উদ্বোধন হলেও পরবর্তী কয়েক বছর ধরে নির্মাণ ও উন্নয়ন কার্যক্রম চলমান ছিল।

প্রচলিত ধারণাগুলির বাইরের চিন্তা করে, মাকি একটি বিশাল ভবন নির্মাণের বদলে মিউজিয়ামটি একটি ক্যাম্পাসের রূপে গড়ার পরিকল্পনা করেছেন। এখানে চারটি আলাদা বিভাগ—প্রবেশদ্বার, শিক্ষা, প্রদর্শনী ও প্রশাসনিক অংশ—সাতটি খোলা প্রাঙ্গণের মাধ্যমে একত্রিত করা হয়েছে। প্রত্যেকটি প্রাঙ্গণের নিজস্ব বিশেষত্ব রয়েছে। কিছু স্থানে পুরনো গাছপালা সংরক্ষণ করে স্থাপত্যের ডিজাইন তৈরি করা হয়েছে। প্রাকৃতিক আলো এবং তাপ নিয়ন্ত্রণের জন্য বিশেষ ধরনের জানালা ব্যবহার করা হয়েছে, পাশাপাশি ঐতিহ্যবাহী জালির আধুনিক রূপও তুলে ধরা হয়েছে। কর্টেন স্টিল, ভারতীয় গ্রানাইট, বেলেপাথর এবং টেরাকোটার মাধ্যমে আধুনিক স্থাপত্য এবং বিহারের ঐতিহ্যের একটি সঙ্গম সৃষ্টি করা হয়েছে।

বিহারের সমৃদ্ধ ইতিহাস, শিল্পকলা ও সংস্কৃতিকে রক্ষা করা এবং আন্তর্জাতিক মঞ্চে উপস্থাপন করা এই মিউজিয়ামের প্রধান কেন্দ্রবিন্দু। এখানে প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন, ভাস্কর্য, মুদ্রা, পাণ্ডুলিপি এবং লোকশিল্পের পাশাপাশি আধুনিক শিল্পের বিভিন্ন সংগ্রহ রয়েছে। প্রাচীন যুগ থেকে অষ্টাদশ শতক পর্যন্ত বিহারের ইতিহাস ও সাংস্কৃতিক বিবর্তনের বিভিন্ন অধ্যায়কে আলাদা আলাদা গ্যালারির মাধ্যমে উপস্থাপন করা হয়েছে।

শিশুদের জন্য বিশেষভাবে সাজানো চিলড্রেনস গ্যালারিতে শিক্ষা ও বিনোদনের মেলবন্ধন ঘটিয়ে নানা বিষয় যেমন বন্যপ্রাণী, লোকশিল্প, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি ইনটারঅ্যাকটিভ প্রদর্শনীর মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে। একইসঙ্গে, ডায়াসপোরা গ্যালারিতে বিহারের সাংস্কৃতিক সংযোগ বিভিন্ন দেশের মানুষের সঙ্গে দেখানো হয়েছে। এছাড়া, এখানে বিহারী খাবারের একটি রেস্তরাঁ এবং স্থানীয় হস্তশিল্প ও স্মারক সামগ্রীর জন্য দোকানও রয়েছে।

এখন পর্যন্ত দেশ-বিদেশের বহু পর্যটক ও বিশিষ্ট ব্যক্তির প্রশংসা কুড়িয়েছে এই প্রতিষ্ঠান। এবার বিশ্বের সেরা মিউজিয়ামের তালিকায় নবম স্থান অর্জন করে বিহার মিউজিয়াম শুধু পটনা বা বিহার নয়, গোটা ভারতের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকেই আন্তর্জাতিক মঞ্চে নতুন পরিচিতি দিল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *