কালীপুজোয় কড়া বিধি, অনুমতি ছাড়া ফানুস ওড়ানোয় নিষেধাজ্ঞা

পশ্চিমবঙ্গ সরকার কালীপুজো, দীপাবলি এবং ছটপুজো উপলক্ষে দূষণ নিয়ন্ত্রণ ও জননিরাপত্তা বিধানের জন্য একাধিক কঠোর নির্দেশিকা প্রকাশ করেছে। নিষিদ্ধ বাজির ব্যবহার এবং বিক্রির ওপর কড়া নিষেধাজ্ঞা থাকছে, এর পাশাপাশি এবার থেকে অনুমতি ছাড়া ফানুস ও এয়ার বেলুন উড়ানোর ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। নিয়ম লঙ্ঘনের ফলে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে প্রশাসন সতর্ক করেছে।

বৃহস্পতিবার নবান্নে স্বরাষ্ট্র দপ্তর, পরিবেশ দপ্তর, পুলিশের প্রতিনিধি, দমকল বিভাগের কর্মকর্তাদের এবং রাজ্য দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের কর্মকর্তাদের নিয়ে এক যৌথ সাংবাদিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে উৎসবের মরসুমের নিরাপত্তা ও পরিবেশ সম্পর্কিত নির্দেশিকাগুলি তুলে ধরা হয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সুপ্রিম কোর্ট এবং কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশনার অনুসরণ করেই এই উৎসবের সকল প্রস্তুতি গ্রহণ করা হচ্ছে।

স্বরাষ্ট্র সচিব সঙ্ঘমিত্রা ঘোষ জানিয়েছেন, কালীপুজো, দীপাবলি এবং ছটপুজোতে রাজ্য দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের অনুমোদনপ্রাপ্ত সবুজ বাজি ছাড়া অন্য কোনো ধরনের বাজি পোড়ানো নিষিদ্ধ। নির্ধারিত সময়সীমার বাইরে বাজি উৎপাত করাও বারণ করা হয়েছে। নির্দেশিকা অনুযায়ী, কালীপুজো ও দীপাবলির দিন রাত ৮টা থেকে ১০টা এবং ছটপুজোর দিন ভোর ৬টা থেকে সকাল ৮টা পর্যন্ত বাজি পোড়ানোর অনুমতি রয়েছে।

ফানুস ও এয়ার বেলুন উড়ানোর কারণে অতীতে বিভিন্ন দুর্ঘটনা ঘটেছে। সেই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে এই বছর প্রশাসন বিশেষভাবে ফানুস উড়ানোর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপে গুরুত্ব দিচ্ছে। রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধনাথ গুপ্ত জানিয়েছেন, এই বিষয়ে নিরাপত্তার স্বার্থে কঠোর নজরদারি রাখা হবে। যেসব ব্যক্তি নিয়ম লঙ্ঘন করে ফানুস উড়াবেন, তাঁদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
বাজি বিক্রির ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণ আরও কঠোর করা হয়েছে। যত্রতত্র বাজির দোকান বা বাজার স্থাপন করা যাবে না। কেবল নির্দিষ্ট নিরাপদ খোলা স্থানে, যা কর্পোরেশন, পুরসভা এবং পুলিশের দ্বারা চিহ্নিত হবে, বাজির বাজার অনুষ্ঠিত হতে পারে। দুর্ঘটনা প্রতিরোধে এই স্থানগুলোতে দমকলের ট্যাংক ও অ্যাম্বুলেন্স নিশ্চিত করার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

নির্দেশিকায় সবুজ বাজির শব্দসম্পর্কিত সীমাবদ্ধতাও উল্লেখ করা হয়েছে। শব্দ উৎপাদক বাজির জন্য সর্বোচ্চ শব্দ মাত্রা ১২৫ ডেসিবল এবং আলো সৃষ্টিকারী বাজির ক্ষেত্রে ৯০ ডেসিবল নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়াও, হাসপাতাল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং অন্যান্য সাইলেন্স জোনের ১০০ মিটারের মধ্যে শব্দবাজি পোড়ানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। এই নিয়মের বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার জন্য পুলিশি নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। বিভিন্ন জেলায় বিশেষ টহলদল, নজরদারি ব্যবস্থা এবং কন্ট্রোল রুম রাখা হবে।

সাধারণ মানুষ কিউআর কোড স্ক্যান করে অনুমোদিত সবুজ বাজির বৈধতা যাচাই করতে পারেন। প্রশাসন বহুতল আবাসনে বাজি পোড়ানোর সময় বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার জন্য কিছু নির্দেশনা দিয়েছে। একই সময়ে, কলকাতার বড়বাজার এলাকা থেকে নিষিদ্ধ বাজির বিরুদ্ধে অভিযানে ১১০ কেজি বাজি উদ্ধার করেছে পুলিশ, এবং এই ঘটনার সাথে জড়িত একজন ব্যক্তি গ্রেপ্তার হয়েছেন।
উৎসবের আনন্দ যাতে পরিবেশ দূষণ, অগ্নিকাণ্ড বা অন্য কোনও দুর্ঘটনায় পরিণত না হয়, সেই লক্ষ্যে রাজ্য সরকার বিভিন্ন দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে নজরদারি চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *