ডিফেন্স সেক্টরে বিশাল ধামাকা!৫২,০০০ কোটির অর্ডারে ফোকাসে এই ৩টি ডিফেন্স শেয়ারের!

দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ এবং ‘আত্মনির্ভর ভারত’ অভিযানে এক বিশাল বড় পদক্ষেপ নিল কেন্দ্র। প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের নেতৃত্বে ডিফেন্স অ্যাকুইজিশন কাউন্সিল (DAC) প্রায় ৫২,০০০ কোটি টাকার সামরিক সরঞ্জাম ও অস্ত্র কেনার জন্য প্রাথমিক অনুমোদন বা ‘অ্যাকসেপ্টেন্স অফ নেসেসিটি’ (AoN) প্রদান করেছে।

এই বিপুল অঙ্কের বরাদ্দের একটি বড় অংশ খরচ করা হবে ‘Buy (Indian-IDDM)’ ক্যাটাগরির আওতায়, যার অর্থ হলো এই সরঞ্জামগুলোর অন্তত ৫০% সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে ভারতে তৈরি হতে হবে। এই সিদ্ধান্তের ফলে ভারতীয় প্রতিরক্ষা খাতের একাধিক শেয়ারে বড়সড় গতি আসার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের ফলে যে কোম্পানি সবচেয়ে বেশি লাভবান হতে পারে, সেগুলি হলো:

ভারত ডায়নামিক্স লিমিটেড (BDL):

এই অনুমোদনের মূল লক্ষ্য হলো মিসাইল এবং শক্তিশালী এয়ার ডিফেন্স নেটওয়ার্ক তৈরি করা। ‘ম্যান পোর্টেবল অ্যান্টি-ট্যাংক গাইডেড মিসাইল’ (MPATGM) এবং ‘মিডিয়াম রেঞ্জ সারফেস-টু-এয়ার মিসাইল’ (MRSAM) সিস্টেমে ছাড়পত্র মেলায় বিডিএল সরাসরি সুবিধা পাবে।
বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, কোম্পানিটি প্রায় ১০,৫০০ থেকে ১২,০০০ কোটি টাকার নতুন অর্ডারের পাইপলাইন পেতে পারে।

বিইএমএল লিমিটেড (BEML):

ভারতীয় সেনাবাহিনীর লজিস্টিকস এবং ভারী যানবাহন সরবরাহের ক্ষেত্রে বিইএমএল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আর্টিলারি গান বা মিসাইল সিস্টেম এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় নিয়ে যাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ‘হাই মোবিলিটি ভেহিকেল’ (HMV) সরবরাহের বড় বরাত পেতে পারে এই সংস্থাটি।

অ্যাপোলো মাইক্রো সিস্টেমস লিমিটেড (Apollo Micro Systems):

এই প্রাইভেট ডিফেন্স কোম্পানিটি উন্নত ইলেকট্রনিক্স এবং নেভিগেশনাল কম্পোনেন্ট তৈরিতে বিশেষজ্ঞ। ড্যাক (DAC) এবার ‘কামিকাজে ড্রোন’ এবং ‘আকাশ তরঙ্গ’ অ্যান্টি-ইউএভি ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেমের অনুমোদন দেওয়ায়, এই কোম্পানির তৈরি অনবোর্ড কম্পিউটার এবং গাইডেন্স মেকানিজমের চাহিদা ব্যাপক বৃদ্ধি পাবে।

দেশীয় প্ল্যাটফর্মের ক্রয় প্রক্রিয়া ক্রমাগত প্রসারিত হতে থাকায় হিন্দুস্তান অ্যারোনটিক্স লিমিটেড এবং মাজাগন ডক শিপবিল্ডার্স লিমিটেডের মতো অন্যান্য সরকারি প্রতিরক্ষা সংস্থাগুলোতেও বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ দেখা যেতে পারে।

শুক্রবার খবরটি আসার পর সকালে প্রতিরক্ষা খাতের শেয়ারগুলিতে ২% পর্যন্ত উত্থান দেখা গেলেও, পরবর্তীতে ট্রেডারদের মুনাফা বুকিং বা ‘প্রফিট বুকিং’-এর কারণে বিইএমএল বা ভারত ডায়নামিক্সের মতো শেয়ারগুলি কিছুটা নিচে নেমে বন্ধ হয়। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এটি একটি দীর্ঘমেয়াদী পজিটিভ খবর। AoN বা প্রাথমিক অনুমোদন পাওয়ার পর আগামী কয়েক মাসের মধ্যে যখন এই বড় বড় অর্ডারগুলি আনুষ্ঠানিকভাবে এই কোম্পানিগুলির হাতে আসবে, তখন এই সেক্টরে একটি বড় র‍্যালি বা তেজ দেখা যেতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *