ভারতের সাংস্কৃতিক ঐক্য, বৈচিত্র্য এবং সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দিতে গত ১ নভেম্বর, রবিবার, কলকাতার লোকভবনের শান্তি বন প্রাঙ্গণে ‘এক ভারত শ্রেষ্ঠ ভারত’ (Ek Bharat Shrestha Bharat) কর্মসূচির অধীনে রাজ্য প্রতিষ্ঠা দিবস উদযাপিত হলো বিশেষভাবে। পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল শ্রী আর. এন. রবির নেতৃত্বে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে ১২ হাজারেরও বেশি মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
এই অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় সংস্কৃতি মন্ত্রকের আওতাধীন পূর্বাঞ্চলীয় সাংস্কৃতিক কেন্দ্র (Eastern Zonal Cultural Centre)-এর শিল্পীরা মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক পরিবেশন করেন। তাঁদের শিল্পকলার প্রদর্শনে ভারতীয় বিভিন্ন অঞ্চলের শিল্প, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের চমৎকার সমন্বয় প্রতিফলিত হয়।
এদিনের অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল বাংলার মাটিতে বসবাসকারী ভিনরাজ্যের ৩২ জন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বকে বিশেষ সম্মাননা প্রদান। শিল্প, বিজ্ঞান, শিক্ষা এবং অন্যান্য বিভিন্নক্ষেত্রে তাঁদের অসাধারণ অবদানের জন্য রাজ্যপাল শ্রী আর. এন. রবি নিজ হাতে সম্মাননাপ্রাপ্তদের হাতে এই সম্মাননা তুলে দেন।
এই সম্মাননার তালিকায় বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য ছিলেন বিশিষ্ট নৃত্যগুরু শ্রীমতী থাঙ্কমণি কুট্টি। তিনি প্রখ্যাত কথাকলি নৃত্যশিল্পী গুরু গোবিন্দন কুট্টির সহধর্মিণী এবং ভরতনাট্যম ও মোহিনীয়াট্টম নৃত্যশৈলীর একজন প্রতিষ্ঠিত সাধিকা ও শিক্ষিকা। ভারতীয় শাস্ত্রীয় নৃত্যের চর্চা, প্রসার ও শিক্ষার ক্ষেত্রে তাঁর শেষ না হওয়া অবদান সত্যিই প্রশংসনীয়।
বর্তমানে তিনি ভারতের অন্যতম প্রাচীন সাংস্কৃতিক পরীক্ষণ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান, ‘সর্বভারতীয় সঙ্গীত ও সংস্কৃতি পরিষদ’-এর রেক্টর পদে রয়েছেন। দীর্ঘকাল ধরে, এই প্রতিষ্ঠান ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীত, নৃত্য এবং সাংস্কৃতিক শিক্ষার প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে আসছে। তাঁর শিল্পচর্চা ও সাংস্কৃতিক অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ রাজ্যপালের হাত থেকে সম্মাননা পাওয়া নিঃসন্দেহে একটি গর্বের বিষয়।
এদিনের অনুষ্ঠানে সর্বভারতীয় সঙ্গীত ও সংস্কৃতি পরিষদের সম্পাদক ড. শান্তনু সেনগুপ্তকেও পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল তরফ থেকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। এছাড়াও, রাজ্যপাল আর. এন. রবির সহধর্মিণী তথা তামিলনাড়ুর প্রথম মহিলা শ্রীমতী লক্ষ্মী রবি এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে খ্যাতনামা বহু ব্যক্তিত্বও উপস্থিত ছিলেন।
‘এক ভারত শ্রেষ্ঠ ভারত’ প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হলো দেশের বিভিন্ন রাজ্যের মানুষের মধ্যে সাংস্কৃতিক বিনিময়, পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং জাতীয় ঐক্যের সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করা। লোকভবনের এই অনুষ্ঠান সেই চিন্তাধারাকে নতুন একটি মাত্রা দিয়েছে।
বাংলার এই মাটিতে যারা নিজেদের প্রতিভা ও কাজের মাধ্যমে রাজ্যের সাংস্কৃতিক পরিবেশকে সমৃদ্ধ করেছেন, তাঁদের সম্মান জানানো একটি প্রশংসনীয় পদক্ষেপ। ড. গুরু থাঙ্কমণি কুট্টির এই সম্মাননা শুধু তাঁর ব্যক্তিগত অর্জনের স্বীকৃতি নয়, বরং ভারতীয় শাস্ত্রীয় নৃত্য এবং সংস্কৃতির প্রতি তাঁর দীর্ঘমেয়াদী প্রতিশ্রুতি ও সাধনারও মূল্যায়ন।