ভারতের কেন্দ্রীয় তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রক (MeitY) জনপ্রিয় মেসেজিং অ্যাপ হোয়াটসঅ্যাপ (WhatsApp), টেলিগ্রাম (Telegram) এবং সিগন্যাল (Signal)-কে একটি কড়া নোটিশ পাঠিয়েছে। এই অ্যাপগুলির একটি বিশেষ ফিচারের নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলেছে সরকার।
কী এই ফিচার এবং কেন বিতর্ক?
মূল বিতর্কটি তৈরি হয়েছে ‘ইউজারনেম’ (Username) ফিচার নিয়ে। এই ফিচারের মাধ্যমে কোনো ব্যবহারকারী নিজের মোবাইল নম্বর লুকিয়ে রেখে শুধুমাত্র একটি ইউনিক ইউজারনেম (যেমন- @username) ব্যবহার করে অন্যদের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন।
হোয়াটসঅ্যাপ এই ফিচারটি আনার প্রস্তুতি নিচ্ছিল, আর টেলিগ্রাম ও সিগন্যালে এটি আগে থেকেই চালু রয়েছে।
সরকারের মূল উদ্বেগ কী?
সরকারের আশঙ্কা, মোবাইল নম্বর গোপন রাখার এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে সাইবার অপরাধীরা পার পেয়ে যেতে পারে।
সরকারের প্রধান আপত্তির জায়গাগুলো হলো:
পরিচয় গোপন রেখে সাধারণ মানুষকে ফাঁদে ফেলা বা আর্থিক প্রতারণা করা সহজ হবে।
সম্প্রতি বাড়তে থাকা ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’-এর মতো মারাত্মক অপরাধের ক্ষেত্রে অপরাধীদের ট্র্যাক করা পুলিশের পক্ষে অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়বে।
অপরাধীরা কোনো সরকারি অফিসার বা নামী সংস্থার নামে ভুয়ো ইউজারনেম তৈরি করে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করতে পারে।
নোটিশে কী বলা হয়েছে?
১ জুলাই ২০২৬ তারিখে হোয়াটসঅ্যাপকে নোটিশ পাঠিয়ে এই ফিচারটি চালু করার প্রক্রিয়ায় তাত্ক্ষণিক স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়েছে।
২ জুলাই এই দুই সংস্থাকেও নোটিশ পাঠানো হয়েছে। যেহেতু এদের অ্যাপে এই ফিচার আগে থেকেই আছে, তাই জালিয়াতি রুখতে তারা কী ব্যবস্থা নিচ্ছে, তা জানতে চাওয়া হয়েছে। এমনকি টেলিগ্রামের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে যে, কেন তাদের অ্যাপে এই ফিচার বন্ধ করা হবে না।
সমস্ত সংস্থাকেই জবাব দেওয়ার জন্য ৩ দিনের সময় দেওয়া হয়েছে।
হোয়াটসঅ্যাপের দাবি, তাদের এই ফিচারে সুরক্ষার সবরকম ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। অন্যদিকে, সরকারের এই কড়া মনোভাব দেখে জোহো (Zoho)-র ভারতীয় মেসেজিং অ্যাপ ‘Arattai’ তাদের প্ল্যাটফর্ম থেকে ইউজারনেম ফিচারটি সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
দেশে বাড়তে থাকা সাইবার ক্রাইম রুখতে সরকারের এই পদক্ষেপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। এখন দেখার, টেক সংস্থাগুলির উত্তরের পর এই ফিচারগুলির ভবিষ্যৎ কী হয়।