ভোটের মরশুমে ঝালমুড়ি, ফিরে দেখা তার ইতিহাস ও বাংলার স্বাদ

একটি ঠোঙা ঝালমুড়ি—বৃষ্টির দিনে, ট্রেনের সফর অথবা বন্ধুদের আড্ডার সঙ্গে যে বাঙালির সম্পর্ক বহু কাল ধরে চলে আসছে। সম্প্রতি রাজনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে এই পরিচিত পদটি আচমকাই আবারও সামনে এসেছে। তবে, ইতিহাসবিদদের মতে, ঝালমুড়ির উজ্জ্বল ও মসলাদার সত্তা আসলে প্রাচীন বাংলার খাবার নয়; বরং এর মূল রয়েছে সাধারণ মুড়ির মধ্যে।
খাদ্য ইতিহাসবিদ উৎসা রায় জানিয়েছেন, বিংশ শতাব্দীর শুরুতে বাংলায় মুড়ি সাধারণত ছিল খুবই সোজাসুজি—শসা, গুড় বা নারকেলের সঙ্গে খাওয়া হত। গ্রামীণ ব্যবহারে এটি ছিল দ্রুত এবং সহজলভ্য একটি খাদ্যবস্তু। এর পাশাপাশি, বাড়ির মহিলাদের জন্য মুড়ি তৈরির প্রক্রিয়া আয় উপার্জনেরও একটি মাধ্যম ছিল।


অন্যদিকে, খাদ্য গবেষক দীপঙ্কর অধিকারী স্মরণ করিয়ে দেন যে, মুড়ির ইতিহাস অনেক প্রাচীন। বৈদিক সাহিত্য থেকে শুরু করে তামিল সঙ্গমের কবিতায় ‘লাজা’ নামে ফোলা চালের উল্লেখ পাওয়া যায়। কৃষ্ণভক্তি সম্পর্কিত বিভিন্ন কাহিনিতেও দেখা যায় যে দরিদ্র মানুষজন নিজেদের নিবেদন হিসেবে মুড়ির ব্যবহার করত।
সময়ের সঙ্গে কলকাতার রাস্তার খাবারের সংস্কৃতি বিকশিত হয়েছে, এবং সেখানেই ঝালমুড়ির আধুনিক রূপের জন্ম ঘটে। চিনাবাদাম, মশলা, ডাল, কাঁচালঙ্কা, এবং সর্ষের তেলের সমন্বয়ে তৈরি এই খাবারটি একটি অনন্য স্বাদের মিশ্রণ। অনেকের কাছে ঝালমুড়ি শুধুমাত্র খাবার নয়, বরং এটি একটি ‘পারফরম্যান্স’; রাস্তার পাশে দ্রুত ও কৌশলে এটি তৈরি করার মধ্যে একটি বিশেষ আনন্দ লুকানো রয়েছে।
আজ ঝালমুড়ি আন্তর্জাতিক পরিসরেও জায়গা করে নিয়েছে। লন্ডনের রন্ধনশিল্পীদের প্রচেষ্টায় ‘গন্ধরাজ-অ্যাভোকাডো ঝালমুড়ি’-র মতো নতুন সৃষ্টি উদ্ভাবিত হচ্ছে। রাজনৈতিক আলোচনা কিংবা শহরের কোলাহলে—একটি ঠোঙা ঝালমুড়ি যেন বাঙালির অনুভূতি, স্মৃতি এবং পরিচয়ের এক অঙ্গীকার উল্লেখ করে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *