দেশের ৮০তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের জন্য গত ১৫ আগস্ট ২০২৬ তারিখে চিংড়িপোতা ওয়েল ফেয়ার সোসাইটির (বলরামপুর, জমাদার পাড়া) উদ্যোগে এবং ‘বিনিপয়সার পাঠশালা’ পরিচালনায় একটি চিত্তাকর্ষক অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়। নানা সাংস্কৃতিক এবং সৃজনশীল কার্যক্রমের মাধ্যমে দিনটির গুরুত্ব উদাহরণস্বরূপ তুলে ধরা হয়েছিল।
অনুষ্ঠানের সূচনা ঘটে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে, যেখানে বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। এরপর শিশুদের নিয়ে অনুষ্ঠিত হয় বসে আঁকো এবং আবৃত্তির প্রতিযোগিতা। অঙ্গসজ্জাসহ ছিল মুকাভিনয়, নৃত্য এবং আবৃত্তির মনোরম প্রদর্শনী। শিশু-কিশোরদের উদ্যমী অংশগ্রহণের ফলে অনুষ্ঠানস্থল হয়ে ওঠে আনন্দময়।
অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ‘বিনিপয়সার পাঠশালা’র প্রতিষ্ঠাতা ও সৃজনী, প্রখ্যাত বাচিক শিল্পী তানিয়া চ্যাটার্জী এবং পাঠশালার অন্যান্য সদস্যরা। বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিচারকদের দায়িত্ব পালন করেন সর্বভারতীয় সঙ্গীত ও সংস্কৃতি পরিষদের তবলা, অঙ্কন এবং যোগা পরীক্ষক এবং ‘বিনিপয়সার পাঠশালা’র ক্লাব মাস্টার ও শিক্ষক অমরেশ সেন, সহ আরও অন্যান্য গুণী শিল্পীরা।
এটি উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, ‘বিনিপয়সার পাঠশালা’ নিরলসভাবে পিছিয়ে পড়া শিশুদের শিক্ষার মূল স্রোতে নিয়ে আসার জন্য কাজ করে যাচ্ছে। প্রতি রবিবার, প্রায় দুই ঘণ্টা জুড়ে ৫০-৬০ জন শিশুকে বিভিন্ন বিষয়ে শিক্ষা প্রদান করা হয়। এই পাঠশালাটি শুধুমাত্র প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা দেয় না, বরং শিশুদের সাংস্কৃতিক এবং সৃজনশীল প্রতিভার বিকাশেও বিশেষ গুরুত্ব দেয়। পাঠশালার সদস্যদের অক্লান্ত মিলন, বিচক্ষণতা, ধৈর্য ও আন্তরিক প্রচেষ্টা কেবল শিশুদের সমৃদ্ধি নয়, বরং সমাজেরও উন্নয়নে অবদান রাখছে।টায় এই উদ্যোগ ক্রমশ এগিয়ে চলেছে।
স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানটি সফলভাবে সম্পন্ন করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল সোসাইটির সদস্যদের পাশাপাশি রাকেশ, সহফুদ্দিন ও ইমরানসহ আরো অনেকেই। তাঁদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা এবং সহযোগিতাতেই এই অনুষ্ঠানটি সাফল্যের উচ্চতায় পৌঁছেছে।
অনুষ্ঠানে পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের বিভিন্ন ধর্ম এবং সম্প্রদায়ের মানুষের অকুণ্ঠ সহযোগিতা এবং স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি ছিল বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এই আয়োজন সম্প্রীতি এবং ঐক্যের এক সুন্দর বার্তা বহন করছে।
ভবিষ্যতে ‘বিনিপয়সার পাঠশালা’র নির্দিষ্ট লক্ষ্য এবং সাফল্যের শিখরে পৌঁছানোর জন্য চিংড়িপোতা ওয়েল ফেয়ার সোসাইটির পক্ষ থেকে পূর্ণ সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত শিশুদের সহায়তায় এই অভিনব উদ্যোগ আগামী দিনে আরও বিস্তৃত এবং শক্তিশালী হবে—এমনটাই বিশ্বাস উদ্যোক্তা এবং শুভানুধ্যায়ীদের।