রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সৃষ্টির প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা উজাড় করে তাঁর অমর ভাবধারাকে স্মরণ করে শান্তিনিকেতনের সৃজনী শিল্পগ্রামে একটি মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান—‘রবি স্মরণে’ পালন করা হয়েছে। ২২শে শ্রাবণ উপলক্ষে গত ১৬ই আগস্ট এই বিশেষ আয়োজনটি সংগঠিত করে ট্রিটাল ফাউন্ডেশন অফ পারফর্মিং আর্টস।
কবিগুরুর স্মৃতির আবেশে ভরা শান্তিনিকেতনের পরিবেশে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে নৃত্য, সঙ্গীত এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মাধ্যমে রবীন্দ্রনাথের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা হয়। শিল্পের বিভিন্ন মাধ্যমের সমন্বয়ে অনুষ্ঠানটি হয়ে উঠেছিল আবেগময় ও নান্দনিক।
অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অমিত অধিকারী এবং নন্দিনী বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁদের উপস্থিতি সত্যিই অনুষ্ঠানটির মর্যাদা আরও বৃদ্ধি করেছে। এছাড়া, অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন বহু গুণী নৃত্যশিল্পী, শিল্পী ও কলাকুশলী, যাঁদের সম্মিলিত প্রদর্শনী দর্শকদের মনে বিশেষ আবেশ সৃষ্টি করে।
সমগ্র অনুষ্ঠানটির পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন দেবান্বিতা দত্ত ও রাজীব দত্ত। তাঁদের সুচারু পরিকল্পনা এবং দক্ষ পরিচালনায় অনুষ্ঠানটি সুন্দরভাবে সম্পন্ন হয়। অনুষ্ঠানের সঞ্চালনার কাজটি পরিচালনা করেছিলেন স্বর্ণা সোমা বসু, যাঁর সাবলীল উপস্থাপনাতে একের পর এক পরিবেশনা দর্শকদের কাছে আরও বেশি আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে।
অনুষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলো ক্যামেরাবন্দি করেছেন চিত্রগ্রাহক সৌরভ দে। অনুষ্ঠানটির মিডিয়া পার্টনার ছিল HR Bangla। এছাড়া, অনুষ্ঠানটি সফল করার জন্য সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন পিকু মণ্ডল, রনি দ্লুই এবং আরও অনেক সহকারী ও শুভানুধ্যায়ী।
২২শে শ্রাবণের গুরুত্বকে অবলম্বন করে ‘রবি স্মরণে’ একটি আন্তরিক প্রচেষ্টা হিসেবে দাঁড়িয়ে গিয়েছিল, যা কবিগুরুর শিল্প ও দর্শনের সঙ্গে নতুন করে সংযোগ স্থাপন করার সুযোগ প্রদান করেছে। শান্তিনিকেতনের মাটিতে রবীন্দ্র-স্মরণে শিল্পীদের এই সম্মিলিত উপস্থাপন দর্শক ও শ্রোতাদের মাঝে একটি অনন্য সাংস্কৃতিক অনুভূতি সৃষ্টিরক্ষেত্রে সক্ষম হয়েছে।
কবিগুরুর ভাষায়, “আলো আমার আলো, ওগো আলোয় ভুবন ভরা।” এই আলোর শিল্পিত আলোকচ্ছবিটা যেন ফুটে উঠেছে ‘রবি স্মরণে’ আয়োজনে।