দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক পুনর্গঠন এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির নতুন দিকনির্দেশনার লক্ষ্যে ভারতে আসতে চলেছেন চীনের রাষ্ট্রপতি শি জিনপিং। আসন্ন ব্রিক্স (BRICS) শীর্ষসম্মেলনে অংশ নিতে প্রায় ৪০০ সদস্যের একটি বিশাল প্রতিনিধিদল নিয়ে তাঁর এই সফর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এই প্রতিনিধিদলে দেশটির শীর্ষ কূটনীতিক, সরকারি কর্মকর্তা, নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ এবং খ্যাতনামা ব্যবসায়ী ব্যক্তিত্বরা যুক্ত থাকছেন।
কূটনৈতিক মহল মনে করছে, এত বড় প্রতিনিধিদল নিয়ে শি জিনপিংয়ের ভারত সফর কেবল বহুপাক্ষিক সম্মেলনেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি ভারত-চীন বাণিজ্যিক ও কৌশলগত সম্পর্কের বরফ গলানোর একটি বড় সুযোগ।
সম্মেলনের মূল অনুষ্ঠানের পাশাপাশি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সাথে শি জিনপিংয়ের একটি হাই-প্রোফাইল পার্শ্ববৈঠক (Side Meeting) হতে পারে বলে ইঙ্গিত মিলছে।
এই বৈঠকে যেসকল বিষয় স্থান পেতে পারে:
বিগত কয়েক বছরের সীমান্ত উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে দুই দেশের শীর্ষনেতাদের এই মুখোমুখি আলোচনা প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখায় (LAC) স্থায়ী শান্তি ও স্থায়িত্ব প্রতিষ্ঠায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।
বিশাল বাণিজ্য প্রতিনিধিদলের উপস্থিতি ইঙ্গিত দেয় যে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ভারসাম্য রক্ষা এবং দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক জটিলতা নিরসনে বিশেষ জোর দেওয়া হবে।
আন্তর্জাতিক অর্থনীতি ও বাণিজ্যে ‘গ্লোবাল সাউথ’-এর অবস্থান শক্ত করা এবং বহুমুখী আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার বিষয়েও আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক বিশ্ব পরিস্থিতির আলোকেও এই বৈঠক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এই সফর কেবল ভারত-চীন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের নতুন অধ্যায় সূচনা করবে না, বরং সমগ্র দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক স্থিতিশীলতায় গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।