নোট ছাপানোর খরচ কমাতে বড় পদক্ষেপ: ভারতে শীঘ্রই আসছে প্লাস্টিকের ₹১০ ও ₹২০ টাকার নোট!

দেশের আর্থিক ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ এবং দীর্ঘমেয়াদী নোট প্রতিস্থাপনের খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনার লক্ষ্যে ভারতের রিজার্ভ ব্যাঙ্ক (আরবিআই) পলিমার বা “প্লাস্টিক” ব্যাঙ্কনোট চালুর বিষয়টি সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করছে।

সাম্প্রতিক আরবিআই বোর্ডের বৈঠকের আলোচনা অনুযায়ী, শীঘ্রই ₹১০ এবং ₹২০ মূল্যের পলিমার নোটের একটি পাইলট প্রজেক্ট বা পরীক্ষামূলক প্রকল্প চালু হতে পারে।
ক্রমবর্ধমান খরচের কারণে কাঠামোগত পরিবর্তন
আর্থিক চাপ তীব্র হওয়ার কারণেই মূলত বিকল্প নোটের উপাদানের দিকে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ককে নতুন করে নজর দিতে হয়েছে। ২০২৫ অর্থবর্ষে (FY25) কারেন্সি বা নোট ছাপানোর খরচ এক ধাক্কায় বেড়ে ₹৬,৩৭২ কোটিতে দাঁড়িয়েছে। দেশে ডিজিটাল লেনদেনের ব্যাপক বৃদ্ধি সত্ত্বেও, কাগজের নোটের বা ক্যাশ টাকার ব্যবহার ক্রমাগত বেড়েই চলেছে। এই বিপুল চাহিদার পাশাপাশি, শুধুমাত্র গত বছরই বাজার থেকে প্রায় ২৩.৮ বিলিয়ন নোংরা ও ছেঁড়া নোট তুলে নিতে হয়েছে। আর এই কারণেই কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক কাগজের নোটের পরিবর্তে আরও দীর্ঘস্থায়ী উপাদানের দিকে ঝুঁকতে বাধ্য হচ্ছে।

পলিমার নোটের সুবিধাসমূহ
তুলা থেকে তৈরি প্রচলিত কাগজের নোটের বিপরীতে, পলিমার ব্যাঙ্কনোটগুলি পাতলা এবং নমনীয় প্লাস্টিক দিয়ে তৈরি করা হয়।
এই কাঠামোগত পার্থক্যের কারণে এর বেশ কিছু বিশেষ সুবিধা রয়েছে:

পলিমার নোটগুলি জল বা আর্দ্রতা-প্রতিরোধী, সহজে ছেঁড়ে না এবং সাধারণ কাগজের নোটের চেয়ে বাজারে অনেক দীর্ঘ সময় সচল থাকে।
উচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা: এই উপাদানের তৈরি নোটে অত্যন্ত উন্নতমানের নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য যুক্ত করা যায়, যার ফলে জাল নোট তৈরি করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে।

নোটের আয়ু বেশি হওয়ার কারণে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের নোট প্রতিস্থাপন এবং নতুন করে ছাপানোর খরচ সরাসরি কমে আসবে।
অতীতের বাধা অতিক্রম
প্লাস্টিক কারেন্সি বা নোটের ক্ষেত্রে ভারতের এই প্রচেষ্টা কিন্তু প্রথম নয়।

এর আগে ২০১২ সালে দেশের পাঁচটি শহরে পরীক্ষামূলকভাবে ₹১০-এর পলিমার নোট পরীক্ষা করেছিল আরবিআই। তবে, সেই সময়ে এটিএম (ATM) মেশিনের প্রযুক্তিগত সমস্যা এবং নোট গণনার জটিলতার কারণে প্রকল্পটি স্থগিত করে দেওয়া হয়। তবে আরবিআই-এর সূত্র মারফত জানা গেছে যে, সেই পুরোনো প্রযুক্তিগত সমস্যাগুলি এখন সফলভাবে সমাধান করা সম্ভব হয়েছে, যা নতুন করে এই নোট চালুর পথ সুগম করেছে।

বৈশ্বিক মানদণ্ডের সাথে সামঞ্জস্য
এই পদক্ষেপের মাধ্যমে ভারত বিশ্বের সেই ৬০টিরও বেশি দেশের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হতে চলেছে, যারা ইতিমধ্যেই প্লাস্টিক নোট ব্যবহার করছে।

বিশ্বের প্রধান প্রধান অর্থনীতি যেমন—অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, যুক্তরাজ্য (UK), সিঙ্গাপুর এবং নিউজিল্যান্ড ইতিমধ্যেই পলিমার ব্যাঙ্কনোট আপন করে নিয়েছে।

প্রাথমিকভাবে কার্যকারিতা যাচাই করার জন্য আরবিআই ধাপে ধাপে এগোনোর পরিকল্পনা করছে, যেখানে প্রথম দিকে কম মূল্যের (ছোট ডিনোমিনেশন) নোটগুলি দিয়ে শুরু করা হবে। কর্মকর্তারা জোর দিয়ে জানিয়েছেন যে, এই আসন্ন পাইলট প্রজেক্টের ফলাফল এবং সাধারণ মানুষের গ্রহণের ওপর ভিত্তি করেই পরবর্তীকালে বড় মূল্যের নোটের ক্ষেত্রে এর স্থায়ী ও ব্যাপক বিস্তার ঘটানো হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *