অসমের প্রখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক রিমা দাসের নতুন সিনেমা ‘Not a Hero’ আবারও আন্তর্জাতিক পরিসরে সাফল্যের স্বাক্ষর রেখেছে। 2026 সালের Indian Film Festival of Melbourne (IFFM)-এ ছবিটি অর্জন করেছে Best Indie Film Award। এই উৎসবেই ছবিটির উদ্বোধন হয় অস্ট্রেলিয়ায়।
এই পুরস্কার রিমা দাসের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, ২০১৯ সালে তাঁর প্রশংসিত চলচ্চিত্র ‘Bulbul Can Sing’-এর জন্যও তিনি একই সম্মান লাভ করেছিলেন IFFM থেকে। অর্থাৎ, ছয় বছরের ব্যবধানে আবারও একই পুরস্কার তাঁর হাতে এসেছে। রিমা দাসের নির্মিত পাঁচটি পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রই কোনও না কোনও সময় IFFM-এ প্রদর্শিত হয়েছে। তদুপরি, তিনি ‘My Melbourne’ অ্যান্থলজি ছবির একটি গল্পও নির্মাণ করেছেন।
‘Not a Hero’ সিনেমার আন্তর্জাতিক যাত্রা শুরু হয়েছিল আগেই। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে Berlin International Film Festival-এ ছবিটির ওয়ার্ল্ড প্রিমিয়ার অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে এটি Generation Kplus Competition- এ নির্বাচিত হয় এবং শিশুদের জুরির কাছ থেকে Crystal Bear Special Mention পায়।
শৈশব, মুক্তি এবং প্রকৃতির সাথে শিশুমনের সংযোগকে ভিত্তি করে নির্মিত ‘Not a Hero’ ছবির গল্প। ১১ বছর বয়সী একটি ছেলে শহরের থেকে তার পূর্বপুরুষের গ্রামে চলে যায়। সেখানে তার একটি দূরসম্পর্কের পিসির সাথে পরিচয় ঘটে এবং একটি ঘোড়ার সাথে তার বন্ধুত্ব গড়ে উঠে। গ্রামের অন্য শিশুরা মিলে তারা কিছু রোমাঞ্চকর অভিযানে জড়িয়ে পড়ে। এই অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে প্রকাশ পায় শিশুটির কল্পনাশক্তি, স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা এবং প্রকৃতির প্রতি তার গভীর সম্পর্ক।
পুরস্কার লাভের পর রিমা দাস জানান, ২০১৯ সালে ‘Bulbul Can Sing’ ছবির পর পুনরায় এমন সম্মান পেয়ে তিনি “অত্যন্ত আনন্দিত”। তিনি তাঁর চলচ্চিত্রের যাত্রায় IFFM-এর ভূমিকা সম্পর্কে আলোচনা করেন।
‘Not a Hero’ ছবিটি Flying River Films-এর প্রযোজনায় এবং Akanga Film Asia এবং TrainTripper Films-এর সহযোগিতায় নির্মিত হয়েছে। ছবিটির আন্তর্জাতিক পরিবেশনার জন্য বিশ্বব্যাপী বিক্রয়-স্বত্ব প্যারিসের MMM Sales-এর হাতে রয়েছে।
দু’বারের জাতীয় পুরস্কারজয়ী রিমা দাস তাঁর সিনেমায় শৈশব, পরিচয়, বেড়ে ওঠা এবং মানুষের সাথে প্রকৃতির সম্পর্কের মতো বিষয়গুলি বারবার চিত্রিত করেছেন। ২০২৪ সালে তিনি Academy of Motion Picture Arts and Sciences-এর একজন সদস্য হিসেবে যোগ দিচ্ছেন।
‘Not a Hero’-র পরে তাঁর আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আবারও প্রমাণ করে যে, অসমের মাটি থেকে আসা রিমা দাসের সিনেমা এখন বিশ্বের চলচ্চিত্রের মঞ্চে নিজস্ব ভাষা ও আবেগের দৃঢ়তার সাথে নিজেদের উপস্থিতি আরও প্রমাণিত করছে।