ওড়িয়া সাহিত্যে অসামান্য অবদানের জন্য ৪৭তম সরলা পুরস্কারে ভূষিত হলেন জনপ্রিয় কবি আশুতোষ পারিদা। রবিবার, কবির কাব্যগ্রন্থ ‘বিশ্বাস দে পৃথিবী’-র জন্য এই সম্মান প্রদান করা হয়েছে। ভারতীয় মেটালস পাবলিক চ্যারিটেবল ট্রাস্ট (IMPaCT) কর্তৃক অনুষ্ঠিত এই পুরস্কার ওড়িয়া সাহিত্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি হিসেবে ধরা হয়। অনুষ্ঠানে কবির হাতে সম্মাননা স্মারক, তাম্রফলক এবং সাত লাখ টাকার একটি আর্থিক পুরস্কার তুলে দেন প্রখ্যাত ভারতীয় গীতিকার, কবি ও ঔপন্যাসিক আর বৈরামুথু। পারিদার পুরস্কৃত কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশ করেছে পরাভা পাবলিকেশন।
অনুষ্ঠানে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ পুরস্কার প্রদান করা হয়েছিল। শিল্পকলায় সার্বিক অবদানের জন্য ইলা-বংশীধর পাণ্ডা কলা সম্মান লাভ করেন বিশিষ্ট ওড়িশি নৃত্যগুরু দুর্গাচরণ রণবীর এবং নামী ভাস্কর ও শিল্পশিক্ষক দামোদর বেহেরা। পরিবেশনশিল্প ও দৃশ্যশিল্প ক্ষেত্রে তাঁদের দীর্ঘ দশকের অবদান প্রশংসিত হয়।র জন্য এই সম্মান দেওয়া হয়। প্রত্যেক সম্মানপ্রাপককে স্মারক, তাম্রফলক এবং আড়াই লক্ষ টাকা করে প্রদান করা হয়।
পুরস্কার গ্রহণের পর আশুতোষ পারিদা বিজ্ঞান এবং কবিতার মধ্যে সম্পর্ক নিয়ে তাঁর চিন্তা উল্লিখিত করেন। তিনি বলেন, এই দুটি ক্ষেত্র একে অপরের বিরুদ্ধে নয়; বরং, মানুষের কৌতূহল, কল্পনা এবং অনুসন্ধিৎসা এই দুটির ভিত্তি। বিজ্ঞান পেশার সঙ্গে জড়িত থেকেও কেন তিনি কবিতা লেখেন, এমন প্রশ্ন তিনি প্রায়শই শুনতে পান। তাঁর মতে, কবিতা মানুষের স্মৃতি ও অনুভূতির গভীরে প্রবেশ করার পাশাপাশি একটি সুন্দর জগতকে নতুনভাবে অনুসন্ধানের সুযোগ করে দেয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ২০২৬ সালের জ্ঞানপীঠ পুরস্কার বিজেতা হিসেবে সম্প্রতি ঘোষিত বৈরামুথু। তিনি মাতৃভাষা ও সাংস্কৃতিক পরিচয় রক্ষার গুরুত্বের ওপর জোর দিয়ে বলেন, ভাষা শুধুমাত্র যোগাযোগের একটি মাধ্যম নয়, বরং এটি একটি জাতির সংস্কৃতি এবং পরিচয়েরও প্রতীক। বিভিন্ন সংস্কৃতির সঙ্গে আদান-প্রদানের মধ্য দিয়েই ভাষার উন্নতি ঘটে। মাতৃভাষাকে সু-সংরক্ষণ করা অত্যন্ত জরুরি।রক্ষিত রাখার পাশাপাশি তার প্রসার ঘটানোও অত্যন্ত জরুরি বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত জ্ঞানপীঠ পুরস্কারজয়ী সাহিত্যিক প্রতিভা রায়ও সাহিত্যে কবিতার অপরিহার্য ভূমিকার কথা তুলে ধরেন। তাঁর মতে, কবিতা সাহিত্যের প্রাণ। উপন্যাস লিখলেও তিনি নিয়মিত কবিতা পাঠ করেন। শব্দ যেখানে অনুভূতি প্রকাশে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ে, কবিতা সেখানে সংবেদনশীলতা ও আবেগের মাধ্যমে পাঠকের হৃদয় স্পর্শ করে।
আইএমপ্যাক্টের ট্রাস্টি পরমিতা পাণ্ডা আশুতোষ পারিদাকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেছেন, “‘বিশ্বাস দে পৃথিবী’ সমকালীন সময়ের ও সামাজিক বাস্তবতার একটি গভীর প্রতিফলন। সামাজিক পরিস্থিতি এবং মানুষের জীবনসংগ্রাম বরাবরই কবিদের সাহিত্য নির্মাণের একটি কেন্দ্রীয় বিষয় হয়ে দাঁড়ায়।
উল্লেখ্য, ১৯৭৪ সালে বংশীধর পাণ্ডা ও ইলা পাণ্ডার উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত আইএমপ্যাক্ট দীর্ঘক্ষণ ধরে ওড়িয়া সাহিত্য ও সংস্কৃতির উন্নয়নের জন্য কাজ করে যাচ্ছে। ১৯৮০ সালে প্রবর্তিত সরলা পুরস্কার ছাড়াও, এই সংস্থাটি ইলা-বংশীধর পাণ্ডা কলা সম্মান এবং একলব্য পুরস্কারের মাধ্যমে সাহিত্য, শিল্প ও সংস্কৃতির নানা ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি প্রদান করে থাকে।