দুই পর্বে পর্দায় ফিরছে শিবাজির বীরগাথা, মুখ্য ভূমিকায় ঋষভ শেট্টি!

ভারতীয় ইতিহাসের এক মহান যোদ্ধা ছত্রপতি শিবাজি মহারাজের জীবন কাহিনী এবার বড় পর্দায় বিশাল আকারে উপস্থাপিত হতে চলেছে। এই মহাত্মাকে কেন্দ্র করে নির্মিত হচ্ছে একটি দুই পর্বের ঐতিহাসিক বায়োপিক। ছবির প্রযোজক হিসেবে একত্রিত হয়েছেন বলিউডের খ্যাতনামা ভূষণ কুমার এবং দক্ষিণী ছবির জনপ্রিয় অভিনেতা ঋষভ শেট্টি। ছবির নাম ‘দ্য প্রাইড অফ ভারত—ছত্রপতি শিবাজি মহারাজ।’ ইতিমধ্যেই এই প্রকল্পের ঘোষণাটি সিনেমাপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করেছে।

ছবিটির চিত্রনাট্য লেখা ও পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছেন সন্দীপ সিং। বর্তমানে এই বিশেষ চলচ্চিত্রের প্রি-প্রোডাকশন পর্যায়ে রয়েছে। নির্মাতাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৭ সালের শুরুতে ছবির শ্যুটিং শুরু হবে। যেহেতু এটি দুটি পর্বে নির্মিত হবে, তাই ছত্রপতি শিবাজি মহারাজের দীর্ঘ ও সংগ্রামী জীবন, তাঁর রাজনৈতিক দূরদর্শিতা এবং সামরিক সাফল্যের বিভিন্ন দিক বিস্তারিত তুলে ধরার সুযোগ থাকবে নির্মাতাদের হাতে।

নির্মাতাদের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ছবিটি কেবল একজন বীর যোদ্ধার জীবনী নয়, বরং শিবাজি মহারাজের জীবনদর্শন, নেতৃত্বের গুণাবলি এবং স্বরাজ প্রতিষ্ঠার স্বপ্নকে কেন্দ্র করে নির্মাণ করা হচ্ছে। ছবির কাহিনী তাঁর জীবনের গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধ, অসাধারণ আত্মত্যাগ, ঐতিহাসিক বিজয় এবং ইতিহাসের কম আলোচিত ঘটনার ওপর আলোকপাত করবে। বিশেষভাবে, নির্মাতারা শিবাজি মহারাজের সামরিক কৌশল, প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের পরিকল্পনা, সাহসী নেতৃত্ব এবং স্বাধীন শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য তাঁর দূরদর্শী চিন্তাভাবনাকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে চান।

এই ছবির সঙ্গে যুক্ত হওয়ার বিষয়ে ভূষণ কুমার বলেছেন, ছত্রপতি শিবাজি মহারাজ এবং মহারাষ্ট্রের ইতিহাস ভারতের গর্বের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাঁর মতে, এ ধরনের একটি ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বের জীবন এবং অবদানকে সিনেমার মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা অত্যন্ত জরুরি।র সামনে তুলে ধরা অত্যন্ত জরুরি। শুধু দেশের দর্শক নয়, আন্তর্জাতিক দর্শকদের কাছেও এই গৌরবময় ইতিহাস পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব রয়েছে বলেও মনে করেন তিনি।

ভূষণ কুমার জানিয়েছেন, ছবির গল্প শুনে সন্দীপ সিংয়ের কাছ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি এই প্রকল্পে আগ্রহী হয়ে ওঠেন। গল্পের উপস্থাপনা এবং শিবাজি মহারাজের জীবনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরার পরিকল্পনা তাকে বিশেষভাবে আকর্ষণ করেছে। অন্যদিকে, ঋশভ শেট্টিকে এই চরিত্রে নির্বাচনের পেছনে একটি সারগর্ভ ভাবনা রয়েছে। তিনি বিশ্বাস করেন যে, শেট্টির ব্যক্তিত্ব, অভিনয়ের ক্ষমতা এবং বড় মাপের চরিত্রকে সফলভাবে ফুটিয়ে তোলার দক্ষতা ঐতিহাসিক শিবাজি মহারাজের মতো ব্যক্তিত্বকে পর্দায় জীবন্ত করে তুলবে।

এছাড়া, ‘কান্তারা’ ছবির সাফল্যের পর ঋশভ শেট্টি ভারতীয় চলচ্চিত্রের দর্শকদের কাছে আরও বেশি পরিচিত হয়ে উঠেছেন, ফলে এমন একটি ঐতিহাসিক ও গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে তাকে দেখতে আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে। যদিও ছবিতে তার চরিত্রের প্রস্তুতি, লুক বা অন্যান্য অভিনেতাদের সম্পর্কে এখনও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

সব মিলিয়ে, ‘দ্য প্রাইড অফ ভারত—ছত্রপতি শিবাজি মহারাজ’ নিছক একটি বায়োপিকের গণ্ডিতে আটকে না থেকে ভারতীয় ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়কে নতুনভাবে তুলে ধরার প্রয়াস হতে চলেছে। তবে ছবিটি কতটা ইতিহাসনিষ্ঠভাবে শিবাজি মহারাজের জীবনকে পর্দায় তুলে ধরতে পারে, সেটাই এখন দেখার। ২০২৭ সালের শুরুতে শুটিং শুরু হওয়ার কথা থাকায় আপাতত এই ঐতিহাসিক ছবির পরবর্তী আপডেটের অপেক্ষায় থাকবেন দর্শকরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *