দুর্গাপুজোর আনন্দ কাটতেই বাঙালির ঘরে ঘরে শুরু হয়েছে কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোর প্রস্তুতি। আর এই উপলক্ষ্যে নদিয়ার তাহেরপুরের পালপাড়ায় এখন তৃপ্তির সঙ্গে জেগে উঠেছে ব্যস্ততা। লক্ষ্মী সরা তৈরি, রং করা এবং দেবদেবীর নিপুণ ছবি আঁকার কাজে দিন রাত জেগে কাজ করছেন শিল্পীরা। তাঁদের আশাবাদ, উৎসবের মরসুমে বিক্রি বৃদ্ধি পেলে কিছুটা হলেও জীবনে সুখ ফিরবে।
লক্ষ্মীপুজোয় বাঙালির ঘরে লক্ষ্মী সরার ব্যবহার একটি প্রাচীন ঐতিহ্য। মাটির সরা অথবা বিশেষভাবে তৈরি পাত্রে রং ও তুলি ব্যবহার করে ফুটিয়ে তোলা হয় দেবী লক্ষ্মী এবং অন্যান্য পৌরাণিক চিত্র। শিল্পীদের দক্ষতার ছোঁয়ায় প্রতিটি সরা হয়ে ওঠে একটি অনন্য শিল্পকর্ম। এই শিল্পের মাধ্যমে বহু বছর ধরে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন তাহেরপুরের পালপাড়ার অনেক পরিবার।
এমনটাই জানা যায় স্থানীয় সূত্র থেকে, বাংলাদেশ থেকে দেশভাগের পর কয়েকটি পরিবার তাহেরপুরের পালপাড়ায় বসবাস করতে আসে। সময়ের সাথে সাথে প্রায় ২৫টি পরিবার ঐতিহ্যগতভাবে লক্ষ্মী সরা তৈরির পেশায় নিযুক্ত হয়েছে। এভাবে তারা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এই শিল্পের মূলে রয়েছে। সরা নির্মাণ এবং এর উপর নকশা আঁকাসহ প্রতিটি কাজই শিল্পীদের বিশেষ দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার প্রতিফলন ঘটায়।
শিল্পীদের মতে, লক্ষ্মী সরার চাহিদা ওপার বাংলায় তুলনামূলকভাবে বেশি, কিন্তু সম্প্রতি এই রাজ্যে এই পণ্যটির বাজারে কিছুটা বৃদ্ধি ঘটেছে। উৎসবের সময় চাহিদা উর্ধ্বমুখী হলেও সারা বছর বিক্রির পরিস্থিতি সম্পর্কে শিল্পীদের মধ্যে উদ্বেগ বিরাজ করছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, ঐতিহ্যবাহী এই লোকশিল্পকে সংরক্ষণ করতে হলে সরকারী সহায়তা, উন্নত বিপণন ব্যবস্থা এবং বৃহত্তর বাজারের সুযোগ অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। লক্ষ্মী সরার প্রতিটি নিপুণ আঁচড়ে বাংলার সংস্কৃতির প্রতিফলন ঘটে; সঙ্গে জড়িয়ে থাকে পালপাড়ার শিল্পী পরিবারগুলির জীবনযাত্রা ও তাদের ভবিষ্যতের আশা-আকাঙ্ক্ষা।