সার্ধশতবর্ষের প্রেক্ষাপটে দেশাত্মবোধ, সংগীত ও নৃত্যের এক অসাধারণ সম্মিলনের সাক্ষী হল ঐকতান পূর্বাঞ্চল সংস্কৃতি কেন্দ্র (EZCC)। এই অনুষ্ঠানটি, যা ২৪শে সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হয়, সংস্কৃতি মন্ত্রকের সহযোগিতায় ‘সহজ মানুষ’ কর্তৃক আয়োজন করা হয়েছিল এবং এর নামকরণ করা হয়েছে ‘বন্দে মাতরম’।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বিধায়িকা শ্রীমতি পাপিয়া অধিকারী, সর্বভারতীয় সংগীত ও সংস্কৃতি পরিষদের সম্পাদক ড. শান্তনু সেনগুপ্ত, প্রখ্যাত চিত্রশিল্পী শ্রী দেবাশীষ মল্লিক চৌধুরী, এবং বিশিষ্ট নাট্য ব্যক্তিত্ব শ্রী জীবন সাহা, ড. জয়শ্রী দত্তসহ সংস্কৃতি ভারতের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব।
এদিনের অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন শিল্পধারার শিল্পীদের অসাধারণ পরিবেশনা অনুষ্ঠানের আকর্ষণকে আরও বাড়িয়ে তোলে, যা শুধু বিশিষ্ট অতিথিদের উপস্থিতিতেই সীমাবদ্ধ নয়। বাঁশিতে ছিলেন ডেপুটি ইন্সপেক্টর অফ পুলিশ শ্রী ইন্দ্রজিৎ বসু, যাঁর সাথে তবলায় সহযোগিতা করেন পণ্ডিত উজ্জ্বল ভারতী। সন্তুর পরিবেশনায় ছিলেন শ্রী সৌমিক সরকার এবং সহযোগী তবলায় ছিলেন শ্রী সুব্রত মণ্ডল। তাঁদের পরিবেশনা শ্রোতাদের মধ্যে সৃষ্টি করে এক মনোমুগ্ধকর আবহ।
নৃত্য পরিবেশনা উপস্থাপন করেন নৃত্যশিল্পী শ্রীমতি রম্যা রায় চৌধুরী, অঙ্কুর ডান্স একাডেমির অধ্যাপিকা শ্রীমতি পায়েল মজুমদার মল্লিক এবং নটরাজ নৃত্যকলা কেন্দ্রের অধ্যাপিকা শ্রীমতি সৌমি মুখার্জী। তাঁদের নৃত্যাভিনয় সংগীতের সাথে মিলে এক চমৎকার পরিবেশ উপহার দেয়, যা ভারতীয় নৃত্যশৈলীর বৈচিত্র্য ও নান্দনিকতা প্রদর্শন করে।
‘সহজ মানুষ’-এর শিল্পী শ্রী তীর্থ সুন্দর বিশ্বাস, শ্রীমতি কমলিকা রায় চৌধুরী, ড. দেবলীনা ভৌমিক এবং শ্রীমতি পরিণীতা প্রামানিকসহ একাধিক প্রখ্যাত শিল্পীর পরিবেশনায় সংগীতের রেশ পুরো অনুষ্ঠানকে আরও অর্থবহ করে তুলেছিল।
সার্বিক অনুষ্ঠানটি অত্যন্ত সমানুভূতির সাথে পরিচালনা করেন বাচিকশিল্পী শ্রী শুভজিৎ সরকার এবং শ্রীমতি সুচিরা সরকার। তাঁদের দক্ষ উপস্থাপনা প্রতিটি পরিবেশনার মাঝে সুন্দরভাবে সম্পর্ক বজায় রাখে।
সার্ধশতবর্ষের গুরুত্ব তুলে ধরতে আয়োজিত ‘বন্দে মাতরম’ একটি স্রেফ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং সংগীত, নৃত্য, বাদ্যযন্ত্র, বাচিকশিল্প এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে এটি ভারতীয় সংস্কৃতির বহুবিধ প্রকাশের অন্যতম একটি স্মরণীয় রাত হয়ে ওঠে।