টানা বর্ষণে কলকাতা জলমগ্ন, সপ্তাহের শুরুতেই চরম ভোগান্তি

সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবসে কলকাতার বিভিন্ন এলাকা বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে। আজ অর্থাৎ সোমবার সকাল থেকে চলতে থাকা প্রবল বর্ষণে উত্তর থেকে দক্ষিণ কলকাতার নিম্ন অঞ্চলে জল জমে যায়। কোথাও জল গোড়ালি সমান, আবার কোথাও হাঁটু পর্যন্ত উঠেছে। এই পরিস্থিতির ফলস্বরূপ যানবাহনের চলাচলেও সমস্যা দেখা দিয়েছে, গাড়িগুলি ধীরগতিতে চলছে।

কলকাতা পুরসভা সূত্রে জানা গেছে, ঠনঠনিয়া, কলেজ স্ট্রিট, আমহার্স্ট স্ট্রিট, দক্ষিণ বেহালা, সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউ ও গড়িয়াহাটসহ একাধিক অঞ্চলে জল জমেছে। ঠনঠনিয়া কালীবাড়ি সংলগ্ন স্থানে হাঁটু সমান জলও দেখা যাচ্ছে। নিকো পার্কের কাছে রাস্তাগুলোতেও জল রয়েছে। চিংড়িঘাটা থেকে সল্টলেক সেক্টর ফাইভ এবং সায়েন্স সিটি থেকে চিংড়িঘাটা মুখী রাস্তাগুলিতে যানবাহনের গতি অপেক্ষাকৃত কম।
কলকাতা পুরসভা ১৬টি বরোর সকল পাম্পিং স্টেশন চালু রাখার নির্দেশনা দিয়েছে যাতে পরিস্থিতি সামলানো যায়। জল জমা হওয়া এলাকার জন্য পাম্পিংয়ের মাধ্যমে জল সরানোর কাজ শুরু হয়েছে। যদিও বৃষ্টির কারণে কিছু স্থানে তাড়াতাড়ি জল নামানো সম্ভব হয়নি। নিকাশি বিভাগের কর্মকর্তারা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন এবং বরো স্তরের ইঞ্জিনিয়ারদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছেন।

পুরসভা সূত্রে জানা গেছে, ঠনঠনিয়ায় জল জমার স্থায়ী সমাধানের জন্য নিকাশি অবকাঠামোর উন্নয়নের কাজ চলছে। তবে এই উন্নয়নকাজের ফলে কিছু এলাকায় সাময়িক জল জমার সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।

বৃষ্টির পরিমাণ ছিল উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। দুপুর ১টা পর্যন্ত বেলগাছিয়ায় সর্বোচ্চ ১০৪ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। মানিকতলায় এই পরিমাণ ছিল ৯১ মিলিমিটার, পাগলাডাঙায় ৯৩, তপসিয়ায় ৮৫ এবং ঠনঠনিয়ায় ৮০ মিলিমিটার। দুপুরের পরেও উত্তর কলকাতার মহাত্মা গান্ধী রোড, বিধান সরণি এবং অন্যান্য বেশ কিছু স্থানে জল জমে ছিল। পাতিপুকুরসহ একাধিক আন্ডারপাসেও জল জমার ঘটনা ঘটেছে।

অন্যদিকে, লাগাতার বৃষ্টির কারণে উত্তর হাওড়ার বাবুডাঙায় একটি তিনতলা বাড়ির ভিতরের কিছু অংশ ধসে পড়ে। বাড়ির মালিক আটকা পড়েন, পরে দমকলকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাঁকে উদ্ধার করেন।
আবহাওয়া দফতরের মতে, উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরের উপর তৈরি হওয়া নিম্নচাপটি এখন আরও সুস্পষ্ট হয়ে উঠেছে। এর প্রভাবে কলকাতা ও দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় সোমবার সারাদিন ধরে বৃষ্টির পরিস্থিতি বিরাজ করবে। মঙ্গলবারও দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে আগামী দিনগুলোতে কলকাতার আবহাওয়া আরও পরিবর্তনশীল হতে পারে।র জলযন্ত্রণা আরও বাড়ে কি না, সে দিকে নজর রাখছেন পুরসভা ও প্রশাসনের আধিকারিকেরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *