রাজ্য বাজেটে বড় চমক:ক্যালকাটা স্টক এক্সচেঞ্জ পুনরুজ্জীবনে ঐতিহাসিক উদ্যোগ সরকারের

রাজ্য বাজেটে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের এক নতুন পুনরুজ্জীবন প্রস্তাবের হাত ধরে আবারও ঘুরে দাঁড়াতে পারে ১১৮ বছরের পুরোনো ঐতিহাসিক ক্যালকাটা স্টক এক্সচেঞ্জ (CSE)।

এক সময় লায়ন্স রেঞ্জের এই প্রাণবন্ত আর্থিক কেন্দ্রটির ট্রেডিং কার্যক্রম ২০১৩ সালের এপ্রিল মাস থেকে বন্ধ করে দেয় বাজার নিয়ামক সংস্থা সেবি (SEBI)। মূলত অনুপালন (compliance) এবং প্রযুক্তিগত খামতির কারণেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল।

তবে এবার এক বড় নীতিগত পরিবর্তনের ঘোষণা করে রাজ্য সরকার জানিয়েছে, তারা এই ঐতিহ্যবাহী এক্সচেঞ্জটিকে পুনরুজ্জীবিত করতে সক্রিয়ভাবে পাশে দাঁড়াবে। এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো কলকাতাকে দেশের একটি প্রধান আর্থিক কেন্দ্র হিসেবে ফিরিয়ে আনা, স্থানীয় কর্মসংস্থান বাড়ানো এবং পূর্ব ভারতের ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পগুলির (SMEs) জন্য সহজে পুঁজি সংগ্রহের পথ তৈরি করা।

রাজ্য সরকারি কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনার পর, সিএসই (CSE) প্রশাসন ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে সেবি-র কাছে জমা দেওয়া তাদের ‘স্বেচ্ছায় ব্যবসা গোটানো’ বা ভলান্টারি এক্সিট অ্যাপ্লিকেশনটি প্রত্যাহার করার ইঙ্গিত দিয়েছে। যেহেতু সেবি এখনও পর্যন্ত চূড়ান্ত কোনো এক্সিট অর্ডার বা নির্দেশ জারি করেনি, তাই এক্সচেঞ্জটির সামনে আইনিভাবে খোলনলচে বদলে নতুন করে কাজ শুরু করার একটি সুযোগ রয়েছে।

তবে বাজার বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন যে, এই পুনরুজ্জীবন বাস্তবায়ন করতে গেলে বিশাল রেগুলেটরি এবং প্রযুক্তিগত বাধা পেরোতে হবে। ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জ (NSE) এবং বোম্বে স্টক এক্সচেঞ্জের (BSE) মতো জায়ান্টদের বাজারে টিকে থাকতে গেলে, সিএসই-কে তাদের ইলেকট্রনিক ট্রেডিং পরিকাঠামো উন্নত করতে এবং আধুনিক সাইবার সিকিউরিটি ও ক্লিয়ারিং মানদণ্ড পূরণ করতে বিপুল বিনিয়োগ করতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *